শিরোনাম

সাংবাদিকতার পরিচয়ে চৌরাস্তায় একটি চক্র নানা অপরাধে সক্রিয় : নেতৃত্বে শামীম ও হালিম ক্লিনিকের গেইটে তালা লাগিয়ে পালিয়েছে কর্তৃপক্ষ টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ বৃক্ষরোপন, নামাজের ঘর ও কমনরুম উদ্বোধন গাজীপুরে একজনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড উন্মোচিত হয়নি কালীগঞ্জে সাবেক এমপি পুত্র হত্যা রহস্য গাজীপুরে পুত্র হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা তাজউদ্দীন পুত্র সোহেল তাজের মনের শক্তি অনেক

কালীগঞ্জে ৩ মাদক ব্যবসায়ীর জেল-জরিমানা

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালীগঞ্জে ৩ মাদক ব্যবসায়ীর জেল-জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল বুধবার বিকেল ৪টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তারের পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত এ রায় প্রদান করেন।
জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ থানার এস আই নাজমুল তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপজেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালায়। অভিযানে উপজেলার বাহাদুরসাদী বাশাইর গ্রামের অধণ্য দাসের ছেলে সঞ্জিত দাস, মোক্তাপুর ধনপুর গ্রামের আলী আহাম্মেদ খাঁনের ছেলে নাঈম খাঁন,এবং কালীগঞ্জ পৌর এলাকার উত্তর ভাদার্ত্তী গ্রামের ওসমান গনির ছেলে রিয়াদকে  মাদকসহ আটক করে। পরে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০ এর ১৯ ৭(ক) ধারা মোতাবেক সঞ্জিত ও নাঈমকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং একই আইনের ২২ (ঘ) ধারা মোতাবেক রিয়াদকে ৫ হাজার টাকা জরিমানার রায় প্রদান করে আলাদাভাবে পরিচালিত দু’টি ভ্রাম্যমান আদালত।

কালীগঞ্জে ৩ মাদকাসক্তের জেল-জরিমানা

মনিরুল আলম : গাজীপুরের কালীগঞ্জে ৩ মাদকাসক্তের জেল-জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল বুধবার বিকেল ৪টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তারের পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত এ রায় প্রদান করেন।
জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ উপজেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালায়। অভিযানে উপজেলার বাহাদুরসাদী বাশাইর গ্রামের অধণ্য দাসের ছেলে সঞ্জিত দাসকে (৩৬), মোক্তাপুর ধনপুর গ্রামের আলী আহাম্মেদ খাঁনের ছেলে নাঈম খাঁনকে (১৯) এবং কালীগঞ্জ পৌর এলাকার উত্তর ভাদার্ত্তী গ্রামের ওসমান গনির ছেলে রিয়াদকে (১৮) মাদকসহ আটক করে। পরে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০ এর ১৯ ৭(ক) ধারা মোতাবেক সঞ্জিত ও নাঈমকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং একই আইনের ২২ (ঘ) ধারা মোতাবেক রিয়াদকে ৫ হাজার টাকা জরিমানার রায় প্রদান করে আলাদাভাবে পরিচালিত দু’টি ভ্রাম্যমান আদালত।

কালীগঞ্জে মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালীগঞ্জ বাদীকে মামলা তুলে নিতে হত্যার হুমকি দিয়েছে সন্ত্রাসীরা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে ।
গতকাল বুধবার সকালে ৩/৪ জন সন্ত্রাসী মামলার বাদী ইব্রাহীমের বাড়ীতে গিয়ে মামলা তুলে নিতে বলে । মামলা তুলে না নিলে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায় সন্ত্রাসীরা।
স্থানীয় ও থানা সুত্রে জানা যায়, ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর ৪০তম শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান এবং রাতে মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে জেলা কৃষক লীগ যুগ্ন সম্পাদক মোঃ ইব্রাহীম মোল্লা ও আইন উদ্দিন খান এদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় । কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আইন উদ্দিন খান ক্ষিপ্ত হয়ে জেলা কৃষক লীগ যুগ্ন সম্পাদক মোঃ ইব্রাহীম মোল্লার ওপর হামলা করে । পরে তাৎক্ষনিক স্থানীয় মেম্বার হুসেন আলী বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়। ঘটনার প্রায় ২ঘন্টা পরে  ইব্রাহীম মোল্লা মাথার চুল কাটার উদ্যেশে ঈশ্বর পুর বাজারে  শ্বভল চন্দ্র দাস’র দোকানে যায় । এ খবর পেয়ে আইন উদ্দিন ও তার চাচা ভাই ওর্য়াড আ’লীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে ১০/১২ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী চাইনিচ কুড়াল, চাপাটি, রাম-দা, ছেন নিয়ে ওই সেলুনে ডুকে ইব্রাহীম মোল্লাকে এলোপাতারি কুপিয়ে গুরুতর আহত কর্।ে পরে বাজারের লোকজনদের সহযোগীতায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ডাক্তার তার অবস্থার আবনতি দেখে দ্রুুত ঢাকা কলেজ মেডিকেল হাসপাতালে পাঠায়। পরে বাজারের লোকজন চাইনিচ কুড়ালসহ দুইজনকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোর্পদ করে । আটকরা হচ্ছে- উপজেলার  খলাপাড়ার সুরুজের ছেলে নজরুল, বাহাদুরসাদীর বিজয় চন্দ্রের ছেলে গৌতম । এ ব্যাপারে  ইব্রাহীম মোল্লা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

লাখ লাখ টাকা হাতানোর নেপথ্যে দলীয় নেতাকর্মী ও প্রশাসন

উত্তরার আব্দুল¬াহপুরে সিএনজি, অটো ষ্ট্যান্ড ও ফুটপাতে চাঁদাবাজি

স্টাফ রিপোর্টার : উত্তরার আব্দুল¬াহপুরস্থ ভেরিবাঁধের উপর অটো ষ্টেন ও ফুটপাত থেকে সরকার দলীয় কতিপয় নামধারী নেতাকর্মী ও প্রশাসনের কর্তা-ব্যক্তিদের দ্বারা প্রতিদিন দোকান প্রতি ১০/১০০ টাকা, সিএনজি ও অটো থেকে ৫০/১৫০ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা জানান, উত্তরার আব্দুল¬াহপুর থেকে তেরমুখ, মাষ্টারপাড়া, আটিপাড়া, কোটবাড়ী, চৌরারটেকে চলাচলরত সিএনজি, অটো থেকে এবং ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও ঢাকা আশুলিয়া সড়কের দু-পাশের ফুটপাত এবং ভাসমান তরিতরকারীসহ বিভিন্ন দোকান থেকে প্রতিদিন স্থানীয় থানা পুলিশের কতিপয় সদস্য থেকে শুরু করে সরকার দলীয় নামধারী নেতা কর্মীরা বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা আদায়সহ ও চাঁদাবাজী সংক্রান্ত এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। আরো জানা যায়, এলাকার নেতা নামধারী মন্টু, কালাম, বেলাল, শাহীনের নেতৃত্বে আব্দুল¬াহপুর চৌরাস্তাসহ আশপাশের এলাকার বিভিন্ন যানবাহনসহ ফুটপাত নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। এরই ধারা বাহিকতায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা কাঁচা তরিতরকারীসহ বিভিন্ন দ্রব্য ও পণ্য-সামগ্রীর দ্বিগুন মূল্য বৃদ্ধিসহ অটো ও সিএনজি চালক ও মালিকরা সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুন ভাড়া আদায় করে থাকে। গতকাল বুধবার দুপুরে আব্দুল¬াহপুর এলাকা ঘুরে আরো জানা যায়, এসব চাঁদাবাজদের একদিন চাঁদা না দিলে ব্যবসায়ীদের পুলিশী হয়রানীসহ বিভিন্ন প্রকার মানষিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে থাকে এবং তাদের উপরোক্ত এলাকায় ব্যবসা করতে দেয়া হয় না। আবার মোটা অংকের টাকা দিলে তাদের পুনরায় বসিয়ে দেয়া হয়। এছাড়াও অটো বা নিএনজি মালিক বা চালকরা একদিন চাঁদা না দিলে তাদের যানবাহন থানা পুলিশ অথবা ট্রাফিক সার্জেন্ট দিয়ে ধরিয়ে থানায় নিয়ে আটক করে রাখা হয়। পরে সংশি¬ষ্ট সার্জেন্ট ও থানা পুলিশকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে তা ছাড়িয়ে আনতে হয়। এবিষয়ে অটো মালিক কামাল, খোকাসহ একাধিক মালিক ও চালকরা জানান, আব্দুল¬াহপুর এলাকায় চলাচলরত সিএনজি ও অটোর সংখ্যা প্রায় ৪/৫ শত রয়েছে। অথচ চাঁদাবাজদের কারণে এসব যানবাহ এলাকায় শান্তিপূর্ণ ভাবে চলতে পারছে না। আমরা চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছি। আগামীতে এ ব্যবসা ছেড়ে দেয়া ছাড়া উপায় নেই। এসব পরিবহন সরিয়ে নিতে একদিকে সরকারের চাপ অন্যদিকে চাঁদাবাজ ও ট্রাফিক পুলিশসহ থানা পুলিশের অত্যাচার, এভাবে কি ব্যবসা চলে ?
ফুটপাত ব্যবসায়ীরা জানায়, থানা পুলিশ ও চাঁদাবাজদের নিয়মিত খাজনা দিয়ে রাস্তার ফুটপাতে ছোট খাটো ব্যবসা করে আমরা আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে কোন মতে জীবন সংসার চালাই। আপনারা এনিয়ে লেখা লেখি করলে আমাদেরকে এখানে ব্যবসা করতে দেবে না। স্ত্রী, সন্তান ও পরিবাদের সদস্যদের জীবনের এতটুকু চাহিদা মেটাতে স্থানীয় থানা পুলিশ ও চাঁদাবাজদের নিয়মিত চাঁদা দিয়ে অনেক অন্যায় অত্যাচার সহ্য করেও আমাদের ফুটপাতে বসে ব্যবসা করতে হয়।
এব্যাপারে উত্তরা মডেল থানার (পূর্ব) অফির্সাস ইনচার্জ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমার থানার কোন অফিসার বা পুলিশ সদস্য এসব ফুটপাত থেকে চাঁদার টাকা আনে বলে আমার জানা নেই। আর চাঁদাবাজ যেই হোক কেউ-ই আইনের উর্দ্ধে নয়। কেউ যদি এধরনের চাঁদাবাজির ঘটনার সাথে জড়িত থাকে প্রমান পেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কালিয়াকৈরে উপজেলা ফোরামের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : স্থাণীয় সরকারের কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে  বুধবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা ফোরামের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসুচী ব্রাক এর সহযোগীতায় ইউনিয়ন পরিষদের নারী প্রতিনিধিদের অংশ গ্রহনে আয়োজিত উপজেলা ফোরামের পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথীর বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুর রহমান। ফোরামের সভাপতি ইসমত আরা এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাসুদ আলম, ব্রাক এর গাজীপুর জেলা সিনিয়র ম্যানেজার আনিসুর রহমান, কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম অভি, সাংবাদিক খোরশেদ আলম, জিল্লুর রহমান, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাহিদা সুলতানা, নারী নেত্রী শাহানাজ আক্তার, সুচিত্রা সরকার, হাসিনা বেগম প্রমুখ। বক্তারা নারী নেত্রীদের ক্ষমতা ্ও তা যথাযথ ভাবে প্রয়োগের বিষয় গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

২৯ একরের অধিক সরকারী বনের জমি ব্যক্তি নামে দলিল রেজিষ্ট্রির অভিযোগ

গাজীপুরে দ্বিতীয় যুগ্ম সাব-রেজিষ্ট্রার আবুল কালাম মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম পলাশের কান্ড

স্টাফ রিপোর্টার : জাল পর্চা ও জাল দলিল মূলে গাজীপুর সদর ২য় যুগ্ম সাব-রেজিষ্ট্রার কর্তৃক ২৯ একরের অধিক সরকারি বনের জমি অনৈতিক ভাবে ব্যক্তি মালিকানায় রেজিষ্ট্রি করে দেয়া হয়েছে মর্মে গুরুত্বর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গাজীপুরে তোলপাড় চলছে। ২য় যুগ্ম সাব-রেজিষ্ট্রার আবুল কালাম মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম পলাশ, জনৈক জাফর উল্লাহর সাথে আতাত করে বড় অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ওই কাজ করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
প্রকাশ- গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার অন্তর্গত কাশিমপুরের সারদা গঞ্জ গ্রামের মৃত নসিমুদ্দিন মাতাব্বরের ছেলে, মোঃ জাফর উল্লাহ, আনোয়ারা বেগম গংদের নিকট থেকে স্থানীয় বড় ভবানীপুর মৌজার ২৯ একর আড়াই শতাংশ জমি ‘আমমোক্তার’ নামা দলিল (নং-১২১৩০, তাং- ২৬/০৬/২০০২্ইং) মূলে গ্রহিতা হয়ে নিজ পুত্র মোঃ আবু সাইয়িদে মিয়ার নামে হেবা নামা ঘোষণা পত্র দলিল (নং-১০৯২২, তাং- ০২/১১/২০১৪ইং) করে দেন। যা কোন ভাবেই আইনসিদ্ধ নয়।
দলিলটিতে তারা জমির মূল্য দেখিয়েছেন- সাড়ে ৫০ কোটি টাকা। যা থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে মাত্র সাড়ে ৪শত টাকা।
আমমোক্তার দলিল হচ্ছে, জমি দেখাশোনার করার প্রতিনিধি মাত্র। এর মাধ্যমে কেউ জমির প্রকৃত মালিক হতে পারেনা। কিংবা জমি কাউকে দান ও হেবা দিতে পারেনা। অথচ জাফর উল্লাহ নিজ ছেলেকে ওই জমি হেবানামা ঘোষণা পত্র দলিল করে দিয়েছেন। আর তাতে বিরাট অংকের উৎকোচের বিনিময়ে সর্বরকম সহযোগিতা করেছেন- সাব-রেজিষ্ট্রার আবুল কালাম মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম পলাশ।
এ দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে তিনি কোন আইনের তোয়াক্কা করেননি। করেছেন পকেট ভর্তি অবৈধ টাকার খেয়াল।
২০১৪ সালের ২ নভেম্বর সাব-রেজিষ্ট্রার আবুল কালাম মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম কর্তৃক রেজিষ্ট্রিকৃত ওই দলিলের খবর প্রচার হওয়ার ফলে, সচেতন মহলের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে যে, তিনি না জানি, অনুরূপ আরো কতো অকাম করে রেখেছে। কাজেই, গাজীপুরে তার কর্মকালের সবগুলো দলিল খতিয়ে দেখা দরকার। এতে বেরিয়ে আসবে, সরকারের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে তিনি সরকারের আর কতো সর্বনাশ করেছেন।
বিভিন্ন সূত্র মতে জানাযায়- জয়দেবপুর থানা এলাকার কাশিমপুরের বড় ভবানীপুর মৌজার আর.এস ৪১ নং খতিয়ানের ২৯ একর আড়াই শতাংশ জমি ১ নং খাস খতিয়ানে সরকারের গেজেট ভূক্ত বনভূমি। যা সংরক্ষণ করা সরকারী কর্মকর্তাসহ প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য। সম্পত্তিটির সি.এস ও এস.এ দাগ গুলো হচ্ছে- ০৩, ৪৬, ২৩৫, ২৪৯ ও ২২১, আর.এস দাগ ২১, ৬৫, ৮৬, ২৫০ ও ৬৪৪। এখানে মোট জমির পরিমাণ ছিলো ৩৮ একর ৭০ শতাংশ। যার মধ্যে থেকে গাজীপুর সদর ২য় যুগ্ম সাব-রেজিষ্ট্রার ২৯ একর আড়াই শতাংশ জমি উৎকোচের বিনিময়ে হেবা ঘোষণা পত্র দলিল রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছেন।
রাজধানী ঢাকার শ্যামলীর বাসিন্দা মৃত মোহাম্মদ হোসেন ভূঁইয়ার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, মেয়ে আফরোজা বেগম, মাহফুজা বেগম, বাদিবা বেগম, ছেলে মোঃ বদিউল হোসেন ও সাবির হোসেন ভূয়া কাগজপত্র তৈরী করে মালিক সেজে ২০০২ সালের ২৬ জুন তারিখে কাশিমপুরের সারদা গঞ্জের মৃত নসিমুদ্দিন মাহব্বরের ছেলে জাফর উল্লাহ কে আমমোক্তার হিসেবে নিয়োগ করেন জমি দেখভালের জন্য। জাফর উল্লাহ চিটিংবাজি করে ১ যুগ পর নষ্ট কর্মকর্তা গাজীপুর সদরের ২য় যুগ্ম সাব-রেজিষ্ট্রার আবুল কালাম মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম পলাশ কে উৎকোচ খাইয়ে ওই দেখভালকৃত জমি নিজ পুত্র মোঃ আবু সাইয়িদ মিয়ার নামে হেবা ঘোষণা পত্র দলিল করে দেয়।
সরকারী বিধি অনুসারে বনের সরকারি গেজেট ভূক্ত জমি রেজিষ্ট্রি করা যায়না এবং আমমোক্তার নামা দলিলের মাধ্যমে জমি অন্যের নিকট বিক্রি করা গেলেও নিজ সন্তান ও স্ত্রীকে হেবা কিংবা দান করা যায় না। এক্ষেত্রে এই কর্মকর্তা আবুল কালাম মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম সাব-রেজিষ্ট্রার সাহেব দুটি আইনকেই বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করেছেন।
ধূর্ত জাফর উল্লাহ গাজীপুর সদর উপজেলা ২য় যুগ্ম সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে সম্পাদিত বা রেজিষ্ট্রিকৃত হেবা ঘোষণা পত্র ১০৯২২/১৪ দলিলে একটি জোত নম্বর (১৭৭৫) উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে সংশ্লীষ্ট কাশিমপুর ভূমি অফিসে খোঁজ করে ওই জোতের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
তবে কাশিমপুর ভূমি অফিসের ভূমি সহকারি কর্মকর্তা দ্বীপক কুমার সাহা জানান- বড় ভবানীপুর মৌজার সর্বশেষ জোত নম্বর হচ্ছে ১১৬২। এর পরে আর কোন জোত খোলা হয়নি। যদি কেই তার পরের জোত নম্বর দেখায়, তার দায়-দায়িত্ব আমরা জানিনা।
সূত্রমতে আবুল কালাম মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম পলাশের কর্মস্থল ঢাকার দোহারে। সপ্তাহে ২ দিন বুধ ও বৃহস্পতিবার তিনি ডেপুটেশনে গাজীপুর সদর ২য় যুগ্ম সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে সাব-রেজিষ্ট্রারের দায়িত্ব পালন করেন। যেহেতু পলাশ সপ্তাহে দু’দিন গাজীপুরে অফিস করেন, সেহেতু তার কাগজ পত্র দেখভাল করেন- ওই অফিসের করণিক নুরুল ইসলাম নুরু। কাজেই তার দ্বারাই সাব-রেজিষ্ট্রার পার্টি ধরেন আর উৎকোচ গ্রহণ করেন। নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানীর ব্যপক অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রমতে আরো জানাযায়- সাব-রেজিষ্ট্রার নিজেকে আইনমন্ত্রীর পি.এস এর বন্ধু পরিচয় প্রদান করে হাক-ডাক মারেন। তিনি বুঝান তার হাত অনেক লম্বা। তিনি যা খুশি করবেন, তাকে কেউ কিছু করতে পারবেন না।
আবুল কালাম মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম ঘুষ ছাড়া কোন কাজ করেন না। জমির মূল্য অনুযায়ী তিনি উৎকোচের হার বেধে দিয়েছেন।
উৎকোচ পেলে তার কাছে দলিল রেজিষ্ট্রি করার জন্য আর কোন বৈধ কাগজপত্রের দরকার হয়না। এজলাশে তিনি কম বসেন। কাজ সারেন নিজ খাস কামরায়। যার দরজা থাকে সিটকিনি আটকা। সেখানে উৎকোচ গ্রহণে সুবিধা বেশী। এক পার্টির কাজ শেষ হলে আরেক পার্টি বা গ্রাহক প্রবেশের অনুমতি বা সুযোগ পান।
উল্লেখ্য- আবুল কালাম মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম পলাশ প্রতি বুধবার অফিস করার কথা থাকলেও গতকাল তিনি অফিস করেননি। ফলে বহুসংখ্যক গ্রাহক ওই কারণে হয়রানীর শিকার হয়েছেন।

দালাল চক্রের হাত ধরে চলছে দুর্নীতির মহোৎসব

গাজীপুর জেলা রেকর্ড রুম সমাচার- ১

স্টাফ রিপোর্টার : গাজীপুর জেলা রেকর্ড রুমে চলছে দুর্নীতির মহোৎসব। সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ জনগন। বিশেষ করে দালালদের উৎপাত রোধ করা যাচ্ছেনা কোন ভাবেই। কাজেই অনেকে মন্তব্য করে থাকেন, এখানে দালাল চক্রের হাত ধরেই চলে দুর্নীতির মহোৎসব। যা রুখে দেয়ার জন্য কেউ নেই।
সরজমিনে দেখাযায়- রেকর্ড রুমের আশপাশে প্রায় শতাধীক দালাল প্রতিনিয়ত ঘোরাফেরা করে। ভূক্তভোগী সাধারণ মানুষ সেবার জন্য গেলেই প্রথমে দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে। চক্রের সদস্যরা তিলকে তাল বানিয়ে মানুষকে বুঝিয়ে হাতিয়ে নেয় টাকা-কড়ি। বিশেষ করে রেকর্ড রূমটি উকিল পাড়ায় হওয়াতে উকিলদের যত সহকারি তথা মহোরি রয়েছে, তারা রেকর্ড রুমের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে আতাত করে দালালী বানিজ্যটি একচ্ছত্র ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ ওই দালাল চক্রসহ রেকর্ড রুমের সব রকম অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানী থেকে রক্ষা পেতে চায়।

কালীগঞ্জে প্রেমিকের সহযোগীতায় স্কুল ছাত্রী গণধর্ষণ

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালীগঞ্জে প্রেমিকের সহযোগীতায় গণধর্ষণের শিকার হয়েছে নবম শ্রেণির এক স্কুল শিক্ষার্থী। গতকাল সোমবার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে ওই ধর্ষিতাকে প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদের পর দুপুরে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুল ইসলাম তাকে বিকেল ৩টায় থানায় নিয়ে আসে। রোববার রাতে উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের দক্ষিণবাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভিকটিম ও তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে জামালপুর ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামে থেকে ওই শিক্ষার্থীকে প্রেমিক মতি তাকে নিয়ে ঘুরতে যাবে কথা বলে তার বন্ধু মাসুদ মোটরসাইকেলে করে নিয়ে আসে। পরে সন্ধ্যায় বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের দক্ষিণবাগ গ্রামের কালভার্টের পাশে নির্জন একটি টেকে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে অপেক্ষা করতে বলে। কিছুক্ষণ পরে মেয়েটির প্রেমিক ও ওই গ্রামের আফসার উদ্দিনের ছেলে মতিউর রহমান মতি (২৫) সহ চার জনের একটি বখাটে দল মেয়েটি জোড়পূর্ব রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করে। সোমবার ভোর ৪টায় মেয়েটির চিৎকারে শুনতে পায় পাশের টেকে জুয়া খেলায় ব্যস্থ থাকা একদল যুবক। পরে তারা  ছুটে এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। তার জবানবন্ধি অনুযায়ী প্রথমে তাকে মতির বাড়ীতে নিয়ে যায়। মতি বাড়ীতে না থাকায় তার বাবা-মা তাদের ফিরিয়ে দেয়। পরে তাকে স্থানীয় ইউপি সদস্য জনব আলীর কাছে তুলে দেয়। মেয়েটি তিনি জামালপুর ইউপি পরিষদে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদের পর দুপুরে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল আলমের সহযোগীতায় থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুল ইসলাম তাকে বিকেল ৩টায় থানায় নিয়ে আসে। মেয়েটি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের বেগম সাহিদা মোল্লা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মতির অন্য সহযোগীরা হচ্ছে একই গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে মাসুদ (২২), শামস উদ্দিনের ছেলে নজরুল (৩০) ও মিনু মিয়ার ছেলে আরিফ (২৫)।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার সাথে জড়িতদেরকে আটকের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

টঙ্গীতে বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ ১০

স্টাফ রিপোর্টার, টঙ্গী : টঙ্গী থানা প্রেস ক্লাব তালতলা রোডে গতকাল বিকেলে সেম কীটনাশক লি. কারখানার বিষাক্ত ও ঝাঁজালো গ্যাসের গন্ধে পুরুষ-মহিলাসহ অন্তত: ১০ জন মারাত্বক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত অমল ঘোষ ও আনোয়ার হোসেনকে টঙ্গী সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়েছে। 
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভূক্তভোগীরা জানায়, বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে সেম  কীটনাশক কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস পথচারিদের নাক-মুখ ও চোখে লাগলে তাদের অনবরত হাচিঁ-কাশি শুরু হয় এবং চোখে জ্বালা পোড়া করতে থাকে। এতে পথচারি খুরশেদ আলম, মনির হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, পারভীন বেগম, আনোয়ার হোসেন, অমল ঘোষ, আনোয়ার হোসেন ও আব্দুস সাত্তার অতিরিক্ত কাশিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পথচারিরা অমল ঘোষ, আনোয়ার হোসেন, খুরশেদ আলম ও কারখানার কর্মচারী জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের ভর্তি করে রাত ১২ টা পর্যন্ত চিকিৎসা করা হয়। এব্যাপারে সেম কারখানার কর্মচারী রঞ্জন নাথ বলেন, ‘কীটনাশকের কাঁচামালের একটি পুরনো ড্রাম খোলার সাথে সাথে ঝাজালো গন্ধ বেরুতে থাকে এবং পথচারিদের নাকে মুখে লাগলে তাদের হাঁচি-কাঁশি শুরু হয়।’
এব্যাপারে কারখানার পরিচালক পঙ্কজ সিলভা কষ্ট্রার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,‘কীটনাশকের ক্যামিকেলে কারো কিছু হয়নি। আমরা এখানে শুধু রিপ্যাক করি।’ 
এব্যাপারে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডা. নুসরাত জাহান বলেন, ‘কীটনাশক তৈরির ক্যামিকেলের গ্যাসে শ্বাসকষ্ট, বুকে পিঠে ব্যাথা ও চোখে ঝাপসা দেখাসহ শরীরের নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে।’ 

সাজাপ্রাপ্তসহ বিভিন্ন মামলার ১০ আসামী গ্রেফতার

কাপাসিয়ায় পুলিশের অভিযান

শাকিল হাসান, কাপাসিয়া : গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আহসান উল্লাহ্’র নেতৃত্বে ১৬ আগষ্ট রোববার রাতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত, ফেরারী ও মোটর সাইকেল আসামী সহ ৯ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এছাড়া মানব পাচার মামলার রিমান্ড ফেরত আসামী সহ ১০ জনকে সোমবার সকালে গাজীপুর আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হলো- উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নের চৌড়াপাড়া গ্রামের সাহেব আলীর পুত্র জাকির হোসেন, তরগাঁও ইউনিয়নের দিঘধা গ্রামের আব্দুল বারেকের পুত্র আবুল হাসেম, রায়েদ ইউনিয়নের দরদরিয়া গ্রামের ইব্রাহীমের পুত্র সোহরাব হোসেন, একই গ্রামের রফিজ উদ্দিনের পুত্র পাশান। বিভিন্ন মামলার ফেরারী আসামীরা হলো- তরগাঁও ইউনিয়নের মৈশন গ্রামের সফিউদ্দিনের পুত্র জসিম উদ্দিন ও আঃ রশিদ, একই গ্রামের তমিজ উদ্দিনের পুত্র মামুন। মোটর সাইকেল চোর চক্রের হোতা উপজেলার সন্মানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিনগাঁও গ্রামের গনি মিয়ার পুত্র সবুজ ও নেত্রকোনা জেলার সন্যাসী পাড়ার রুস্তম মিয়ার পুত্র আজিজ মোল্লা। এছাড়া মানব পাচারকারী চক্রের হোতা ও রিমান্ড ফেরত আসামী উপজেলার টোক ইউনিয়নের উলুসারা গ্রামের সেলিম মিয়ার স্ত্রী রোজিনা আক্তার (৩৫) কে সোমবার সকালে গাজীপুর আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আহসান উল্লাহ্ জানান, পুলিশের বিশেষ গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার এবং আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

প্রতিবাদ করায় ৮ জনকে পিটিয়ে আহত

কালিয়াকৈর স্কুলছাত্রীদের উত্যাক্ত

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : দুই স্কুলছাত্রীকে উত্যাক্ত করার প্রতিবাদ করায় যাত্রী ও চালকসহ পাঁচজনকে পিটিয়ে আহত করেছে বখাটেরা। এ সময় তারা সফিপুর-বড়ইবাড়ি আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ রেখে বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে। ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা কালিয়াদহ এলকায় সোমবার দুপুরে।
প্রত্যক্ষদর্শী, এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী ছাত্রীদের পরিবার সুত্রে জানা গেছে, উত্যাক্তের শিকার ওই দুই ছাত্রী উপজেলার বড়ইবাড়ি এ,কে,ইউ, ইনষ্টিটিউশন এন্ড কলেজের ১০ম শ্রেনীর ছাত্রী। উপজেলার কালিয়াদহ এলাকার আওলাদ হোসেনের ছেলে রিফাত হোসেন  ও তার বন্ধু রনি মিয়া, রবিন হোসেন, নাঈম হোসেন, আশ্ররাফ মিয়াসহ কয়েকজন বেশ কিছু দিন ধরে ওই ছাত্রীদের উত্যাক্ত করে আসছে। সোমবার সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে ওই ছাত্রীদের আবারও উত্যাক্ত করে ওই বখাটেরা। বিষয়টি ছাত্রীদের বড় ভাইদের জানালে এর প্রতিবাদ করে তারা। এতে বখাটেরা ক্ষিপ্ত হয়ে বিষয়টি তাদের অন্য বন্ধুদের জানায়। পরে ২০-২২ জন ছেলে ওইদিন দুপুরে কালিয়াদহ এলাকায় সফিপুর-বড়ইবাড়ি আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে। এ সময় সড়কে থাকা সিএনজি, টেম্পু, মোটারসাইকেলসহ বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে বখেটেরা। এসময় বাধা দিতে গেলে মোটরসাইকেল আরোহী আহম্মদ আলী, আলম খান, টেম্পু চালক আবু হায়েত ও যাত্রী জাফর মিয়াসহ ৮ জনকে পিটিয়ে আহত করে। পরে এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়। আহতদের মধ্যে আহম্মদ আলীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে বেলা পৌণে ৩টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখলে আতংকে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পরিবহন শ্রমিকরা। তবে স্কুল ছুটি হওয়ায় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য নূরুল ইসলাম জানান, আমি আসছি সবার পরে। বিকেলে সবাই একত্রে বসে একটা সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।
এব্যাপারে কালিয়াকৈর থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, শুনেছি একটা মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এখনো কোন অভিযোগ হয়নি।

কালিয়াকৈরে সিএনজি চালকের আত্মহত্যার চেষ্টা

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার জালশুকা এলাকায় সোমবার টিএমএসএস নামক একটি এনজিও থেকে বাবা কর্তৃক ঋণ করা টাকা পরিশোধ করতে না পেরে অপবাদের মুখে এক সিএনজি চালক ছেলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। তাকে মূমূর্ষ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভতি করা হয়েছে। আহত সিএনজি চালক ওই এলাকার কালু মিয়ার ছেলে আলহাজ হোসেন (২৮)।
স্থানীয় লোকজন ও আহতের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে কালু মিয়া উপজেলার উত্তর হিজলতলী এলাকায় অবস্থিত টিএমএসএস নামক একটি বেসরকারী এনজিও প্রতিষ্ঠান থেকে আড়াই বছর মেয়াদী ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ছেলে আলহাজকে একটি সিএনজি (গাজীপুর-থ-১১-৮৯৯১) কিনে দেয়। দেড় বছর ধরেই আলহাজ প্রতি সপ্তাহে নির্ধারিত ৩হাজার টাকা করে ঋণ পরিশোধ করে আসছিল। সম্প্রতি মহাসড়কে সিএনজি চলাচল নিষেধ করায় তার উপার্জন কমে আসে। নিজের পরিবারের খরচ সামলে সপ্তাহে ৩হাজার টাকা টাকা ঋণ পরিশোধ করতে ব্যার্থ হয় সিএনজি চালক। পরে গত সপ্তাহে নগত ১৫শত টাকা ও নিজের সঞ্চয়ের টাকা থেকে ১৫শত টাকা মিলিয়ে ঋণ পরিশোধ করে। সোমবার সকালে টিএএসএস এর ফিল্ড সুপারভাইজার (এফএস) মাহমুদুল হাসান তুহিন কালু মিয়ার বাড়ীতে সাপ্তাহিক ঋণ আনতে গেলে কালু মিয়া ঋণ দিতে অপারগতা জানায়। ওই এফএস এর চাপের মুখে পাশের বাড়ীর এক লোকের কাছ থেকে ধার নিয়ে ১৫ শত টাকা দেয় এবং সঞ্চয় থেকে বাকিটা পরিশোধ করতে বলে। ওই টাকা না নিয়ে এনজিও কর্মকর্তা জানায়, ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে বিকেলের মধ্যে তারা সিএনজিটি নিয়ে যাবে। এ নিয়ে ছেলে ও বাবার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ছেলে ঘরের ভিতরে গিয়ে দরজা আটকে দিয়ে আড়ার সাথে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস নেয়। পরিবারের লোকজন বুঝতে পেরে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঝুলন্তাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। খবর লেখা পর্যন্ত তার অবস্থা আশঙ্খাজনক বলে জানা গেছে।
এব্যপারে ফিল্ড সুপারভাইজার মাহমুদুল হাসান তুহিন বলেন, আমি নির্ধারিত সময়ে ঋণের টাকা আনতে গিয়েছিলাম। তাদের সাথে কোন খারাপ আচরন করিনি।
টিএসমএসএস এর ম্যনেজার মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটা আমাদের অফিসিয়ালি নিয়ম। আমাদেরকে অফিসের নিয়মানুসারে চলতে হয়।
আহত সিএনজি চালকের মা বেগম আক্তার বলেন, সরকার নিয়ম করে দিয়েছে মহাসড়কে সিএনজি যেতে পারবেনা। বিপদে পরেছি আমরা। ওই রাস্তায় না উঠতে দিলে আয় রোজগার কম হয়। আমরা তাহলে কিভাবে এত ঋণ পরিশোধ করব।

গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজে বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্যার মাগফেরাত কামনা

স্টাফ রিপোর্টার : গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের পক্ষ থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪০তম মৃত্যু বার্ষিকি এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করেন । অত্র কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব প্রফেসর মো: ইমদাদুল হক এর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেয় গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা, বিজ্ঞান বিভাগের ফয়েজুল ইসলাম ফয়েজ, মো: সোহেল রানা, মেহেদী হাসান, রাফি শাহরিয়ার, নওশাদ মাহমুদ, তাহসিনা আক্তার ইমা, মনিষা আক্তার ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের জুলেখা আক্তার, সানিয়া আক্তার বক্তব্য রাখেন। আলোচকরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ছাত্র জীবন, রাজনৈতিক জীবনের উপর বিশদ আলোচনা করেন । তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর বিদেহী আত্যার মাগফেরাত কামনা করে  বলেন, আমরা আজ ৪০ বৎস পূর্বের সেই নোংরা রাজনীতি ঘৃনা করে শপথ নেই আর যেন কোন জাতিকে তার প্রাণপ্র্রিয় নেতাকে অকালে হারাতে না হয়। আলোচনায় সভাপতি বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, যার ডাকে আমরা যুদ্ধ করেছি এই বাংলাকে স্বাধীন করেছি, ১৯৭৫ সালের আজকের এই দিনে কালো রাজনৈতিক কারণে আমরা সেই নেতাকে হারিয়েছি । যা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি । আজ দেশের মুক্তিযোদ্ধারা রিকশা চালায়, নিপীড়িত নিঃস্ব জীবন যাপন করে, তাদের দেখার কেউনেই। তিনি তার ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা বঙ্গ বন্ধুর চেতনা বুকে লালন করবে, ৭১ চেতনা বুকে লালন করবে, দেশ মাতাকে ভালবাসবে, এটাই আমার কামনা। উক্ত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের তরুন প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ওমর ফারুক, প্রভাষক প্রনীতা রানী দাস (ইংরেজী) এবং দোয়া ও আলোচনা সভার আহ্বায়ক এবং তথ্য ও যোগাযুগ প্রযুক্তি প্রভাষক সফিউদ্দিন সোলক, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোঃ শহিদুল হক প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজ, সাইফুল ইসলাম শামীম প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজ, এবং গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের সম্মানীত প্রভাষক ও ছাত্র-ছাত্রী বৃন্দ।

গাজীপুরে গরু বোঝাই ট্রাকের সাথে বাসের সংঘর্ষে আহত ১৫

স্টাফ রিপোর্টার : গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা সাহেব বাজার বাইপাস সড়ক এলাকায় শনিবার যাত্রীবাহী বাসের সাথে গরুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওইদিন দুপুরে ঢাকা থেকে গাইবান্ধাগামী আশা ক্লাসিক নামের যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিকে আসা গরু বোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে ১৫ বাস যাত্রী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বাস ও ট্রাক আটক করা হলেও চালকরা পালিয়ে গেছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক দিবসের আলোচনা  

স্টাফ রিপোর্টার : স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪০তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস - ২০১৫ উপলক্ষে ১৬ই আগস্ট রবিবার সকাল ১১:০০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসস্থ একাডেমিক ভবনের নিচতলায় এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের মাননীয় চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস- চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ।


বশেমুরকৃবি’তে জাতীয় শোক দিবস পালন

স্টাফ রিপোর্টার : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪০তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস -২০১৫ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাবগম্ভীর ও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল - ১৫ আগস্ট সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতভাবে উত্তোলন, কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ ও শোক র‌্যালি। সকাল ১০টায় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ মাহ্বুবর রহমান এর নেতৃত্বে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে একটি বিশাল শোক র‌্যালী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবন চত্বরে এসে শেষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও শহীদ মিনারে সর্বপ্রথম পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ মাহ্বুবর রহমান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও  কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সদস্যরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বিকাল ৩-০০টায় বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে রচনা লিখন ও উপস্থিত কবিতা লিখন প্রতিযোগিতা, বঙ্গবন্ধুর উপর ডকুমেন্টারি প্রদর্শন। এছাড়াও লাইব্রেরি লাউঞ্জে মাস ব্যাপি বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর আলোকচিত্র প্রদর্শণ করা হয় । অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ ইসমাইল হোসেন মিঞাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালকবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীনগণ, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, প্রভোস্টবৃন্দ, ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ ও স্কুলের শিক্ষক-ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে ১৫ আগস্টে নিহত সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত, দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করে কোরআনখানী, মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রীপুরে বস্তা চাপা পড়ে শ্রমিক নিহত

মনির শিকদার : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ এলাকার ভিয়েলা টেক্সটাইল মিলে সূতার বেল পড়ে সাইফুল ইসলাম (৬০) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছে। নিহত শ্রমিক শ্রীপুর পৌর এলাকার উজিলাব গ্রামের আব্দুল মোতালেবের পুত্র। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় কারখানার ভিতরে এ ঘটনা ঘটে।
শ্রীপুর মডেল থানা সূত্র জানায়  নিহত শ্রমিক ওই কারখানার ক্লিনিং পদে কর্মরত ছিল। ঘটনার সময় সাইফুল ইসলাম কারখানার গোডাউনে ঝাড়– দিচ্ছিল। এসময় সারিবদ্ধভাবে রাখা সূতার বেল হঠাৎ করে তার ওপর পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়।

গাজীপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন


মানিক সরকার : স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪০তম শাহাদাত বার্ষিকী ১৫ আগষ্ট ‘জাতীয় শোক দিবস’ পালন উপলক্ষে গতকাল শনিবার গাজীপুর জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে। কর্মসূচীর মধ্যে ছিলো- ফজরের নামাজের পরে গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও কালেক্টরেট জামে মসজিদ গাজীপুরসহ বিভিন্ন মসজিদে কোরআন খতম ও বিশেষ মোনাজাত, সরকারী বেসরকারিসহ সকল প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, কালো ব্যাচ ধারণ ও শোক র‌্যালী, বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামে কবিতা পাঠ, বঙ্গবন্ধুর জীবনীর উপর ‘চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধু’ প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন, সকল মন্দির ও গীর্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনা এবং বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও আজকের বাংলাদেশ বিষয়ক আলোচনা, দোয়া মাহফিল ও পুরস্কার বিতরণ। 

বিকেল ৫টার আলোচনা, দোয়া মাহফিল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক এস এম আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ পিপিএম (বার), গাজীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. মোঃ আজমত উল্লা খান, গাজীপুর জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এড. মোঃ আব্দুল হাদী শামীম, গাজীপুর শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. মোঃ ওয়াজ উদ্দিন মিয়া, গাজীপুর সদর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আতাউল্লাহ মন্ডল, গাজীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিজ উদ্দিন রফিজ প্রমুখ। 
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক/উন্নয়ন) এস এম মোস্তফা কামাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ মহসিন ও বাবু মনোজ কুমার গোস্বামী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন- মোঃ সিরাজুল ইসলাম জানু। 

গাজীপুরের মটরবাইক চালকদের জন্য সুখবর

স্টাফ রিপোর্টার : ট্রাফিক সেবাকে জনবান্ধব করতে ও চেকপোস্টে হয়রানি কমাতে ‘গ্রিন বাইকার মুভমেন্ট সেবা’ চালু করছে গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগ। বুধবার গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। গ্রিন বাইকার মুভমেন্ট এর বিষয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, যেসব মোটরসাইকেল চালক আইন মেনে চলেন অর্থাৎ তাদের বাইকের সব কাগজপত্র আপ টু ডেট এবং যারা সব সময় হেলমেট পরে বাইক চালান তাদের জন্য গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে থাকছে বিশেষ কিছু সেবা। মূলত যারা আইন মেনে মোটরসাইকেল চালান তাদেরই গ্রিন বাইকার হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। গ্রিন বাইকারদের দেওয়া হবে বিশেষ গ্রিন স্টিকার, যা বাইকের সামনে লাগানো থাকবে। এটা দেখে বোঝা যাবে সে গ্রিন বাইকার। এছাড়া তাদের হেলমেটেও একটি ছোট স্টিকার থাকবে। ফলে একই ব্যক্তি বারবার চেকপোস্টে কাগজপত্র দেখানোর ঝামেলা ও হয়রানি থেকে মুক্ত থাকবেন। এতে দু’পক্ষেরই সময় বাঁচবে। যারা এই সেবা পেতে চান তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে সহজে ও দ্রুত তা পেতে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ কর্মসূচীর আওতায় মাসিক মিটিংয়ের মাধ্যমে বাইকারদের আন্তঃস¤পর্ক বৃদ্ধির পাশাপাশি পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনতে কাজ করা হবে। এর ফলে গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগের সব সদস্যের সঙ্গে গ্রিন বাইকারদের সুস¤পর্ক তৈরি হবে। এতে হয়রানি একবারে জিরোতে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, যে সব মোটরসাইকেল চালক আইন মেনে চলেন তাদেরও বিভিন্ন চেকপোস্টে থামনো হয়। এতে যেমন সময় নষ্ট হয় তেমনি ভোগান্তিওপোহাতে হয়। মূলত আইন মেনে চলা মানুষগুলোকে পদ্ধতিগত ঝামেলা বা হয়রানি থেকে মুক্তি দিতে আমাদের একটি ছোট প্রচেষ্টা এটি। হয়রানি বা ঝামেলা কমিয়ে জনবান্ধব সেবা দিতে পারলেই একদিন পুলিশ জনগণের সত্যিকারের বন্ধু হিসেবে মর্যাদা পাবে। আমরা সে লক্ষেই কাজ করছি।
মোটরসাইকেল চালকরা গ্রিন বাইকার মুভমেন্টে রেজিস্ট্রেশন করতে চাইলে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। বিস্তারিত জানতে ফোন/টেক্সট করতে পারেন ০১৭৬৯৬৯০৪২০ নম্বরে।

যশোর বোর্ডে ভয়াবহ বিপর্যয় ঃ পাসের হার ৪৬.৪৫ %, ইংরেজীই কাল

মনির শিকদার : এবছর যশোর বোর্ড থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক লাখ ১৪ হাজার ২৮১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ
হয়েছেন ৫৩ হাজার ৮৭ জন।
পাসের হার ৪৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ, যা গতবছরের চেয়ে কম। গতবছর এই বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬০ দশমিক ৫৮।
পাসের মতো সব বোর্ডের মতো এই বোর্ডেও এবার জিপিএ-৫ কমেছে।
এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন এক হাজার ৯২৭ জন। গতবছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন চার হাজার ২৩১জন।
ইংরেজি বিষয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ হওয়ায় বোর্ডে এবার ফল খারাপ হয়েছে বলে মনে করছেন বোর্ড কর্মকর্তারা।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র জানান, ইংরেজি প্রশ্ন এবার কঠিন হয়েছিল।
‘বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়েছে। যে কারণে পাসের হার অনেক কমে গেছে।
এবার এই বোর্ডে ১৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের কেউই পাস করতে পারেননি বলে জানান তিনি।

কালিয়াকৈরে হত্যা মামলার ২ আসামী গ্রেপ্তার

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকার ফেন্সি সিরাজ হত্যা মামলার প্রধান আসামী সহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যা রহস্য উদঘাটন করতে পুলিশ ৭দিনের রিমান্ড চেয়ে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করেছে।
পুলিশ সুত্র জানায়, গতকাল রাতে মোবাইলের সুত্র ধরে কালিয়াকৈর থানা পুলিশের মৌচাক ফাড়ি ইনচার্জ এসআই সাইফুল আলম অভিযান চালিয়ে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে সিরাজ হত্যা মামলার এজহারভুক্ত প্রধান আসামী শাহীন (২৮) ও ৪নং আসামী মাসুদ (২৬) কে গ্রেপ্তার করে।
নিহত সিরাজের স্ত্রী রুবী বেগম জানান, সফিপুর পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা তার স্বামী সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ্ওরফে ফেন্সি সিরাজকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আসামীরা নির্মমভাবে হত্যা করে। এ বিষয়ে স্ত্রী রুবী বেগম বাদী হয়ে ৬জনের নাম উল্লেখ করে কালিয়াকৈর থানায় ২৮ (৩) ১৫ নং  হত্যা মামলা দায়ের করলে আসামীরা পালিয়ে যায়। পরে তিনি পুলিশের শিখানো কায়দায় মোবাইল ফোনে প্রধান আসামী শাহীনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। তাদের সাথে দেখা সাক্ষাত, সময় কাটানোর স্থান ও দিন ধার্য্য করলে পরিকল্পনা অনুযায়ী পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।তারা ২জনই নিহত ফেন্সি সিরাজের একই এলাকার ঘনিষ্ট বন্ধু ছিল।

কালীগঞ্জের বিএনপি নেতারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে

সাধারণ কর্মীরা মামলায় জর্জরিত

হেলাল উদ্দিন খান, কালীগঞ্জ : ক্ষমতা পালা বদলের সাথে সাথে গত ২০০৯ থেকে বিএনপি নেতা শূন্য হয়ে পরেছে কালীগঞ্জ। ২০ দলীয় জোটের দলীয় কর্মসূচীর ঘোষনায় পুলিশী অভিযানের ভয়ে মৌসুমী নেতারা এলাকা ছেড়ে চলে গেছে অন্যত্র। দল গঠনে অনিয়ম ও রাজনৈতিক মামলার স্বীকার সাধারণ কর্মীরা নিজেদের টাকায় মামলা হাজিরা দিতে গিয়ে নেতাদের দালালীতে আরো অসহায় হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সড়ক র্দুঘটনায় আহত নেতা শহিদুল্লাহ ব্যাতিত জামাই মিঠু, বালু মাসুদরানা, পল্লী ফরিদ, বাবলু ও লাবলুসহ অনেক নেতারা এলাকা ত্যাগ করে অনেকে বাড়ী র্নিমান করে অন্যত্র অবস্থান করায় কালীগঞ্জ বিএনপি নেতা শূন্য হয়েগেছে। আবার অনেকে হামলা মামলার ভয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আতœগোপন করে আছে। সাধারণ কমীরা বিভিন্ন মামলায় জর্জরিত হয়ে নিজের অর্থে মামলা চালাতে গিয়ে নেতাদের দালালিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। তৃনমুল নেতাদের অভিযোগে জানা যায়, দল গোছানোর নামে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পরস্পর নিজস্ব লোক নিয়ে বিভিন্ন পকেট কমিটি গঠিত হয়েছে। দলের ত্যাগী নেতা যারা মাঠে ময়দানে কাজ করেছেন তাদের বাদ দিয়ে একাধিক আত্বীয়দের স্বজন-প্রীতির মাধ্যমে দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনীত করায় দলের ভেতর ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠে। যার ফলে অনেক ত্যাগী নেতারা দল ছেড়ে বিভিন্ন দলে ও নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মনোনিবেশ করেছেন। এদিকে কয়েক দিন আগে পৌর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডের আলমাস আলী স্থানীয় কর্মীদের নিয়ে আওয়ামীলীগে যোগদান করেছে।
সাবেক এমপি একেএম ফজলুল হক মিলন বলেন, মিথ্যা হামলা মামলার ভয়ে অনেক নেতাকর্মী এখনো এলাকার বাহিরে অবস্থান করছে এটা সত্য তবে অনেক নেতা এখনো মিথ্যা মামলায় কারাগারে আছে।
এ বিষয়ে জামাই মিঠু বলেন, আমি আরো ৭/৮ বছর আগে দল ত্যাগ করে ব্যবসা বানিজ্যে আছি। এত বড় বড় নেতাদের ভিড়ে আমার জায়গা হয় না বলে তাই দল ত্যাগ করেছি।
এ বিষয়ে ফরিদ আহাম্মেদ মৃধা বলেন, আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর দিন আমার বাড়ীতে হামলা চলিয়ে আমাকে না পেয়ে আমার বাবাকে মারধর করে এবং এই বলে হুমকি দেয় যদি আমি কালীগঞ্জে আসি তাহলে জীবন নিয়ে ফিরতে পারবো না। তাই আমি বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। তবে মামলায় কোন কর্মীদের নিকট থেকে টাকা নেয়া হয় না।