শিরোনাম

সাংবাদিকতার পরিচয়ে চৌরাস্তায় একটি চক্র নানা অপরাধে সক্রিয় : নেতৃত্বে শামীম ও হালিম ক্লিনিকের গেইটে তালা লাগিয়ে পালিয়েছে কর্তৃপক্ষ টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ বৃক্ষরোপন, নামাজের ঘর ও কমনরুম উদ্বোধন গাজীপুরে একজনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড উন্মোচিত হয়নি কালীগঞ্জে সাবেক এমপি পুত্র হত্যা রহস্য গাজীপুরে পুত্র হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা তাজউদ্দীন পুত্র সোহেল তাজের মনের শক্তি অনেক

টঙ্গীতে হরতাল অবরোধ বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা

ব্যুরো চিফ, টঙ্গী  : টঙ্গীতে বিএনপি জামায়াত জোটের ডাকা টানা অবরোধ ও হরতালের প্রতিবাদে হরতাল বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতির নেতৃত্বে সকাল ১১টায় বিক্ষোভ মিছিলটি স্থানীয় নতুন বাজার আওয়ামীলীগ কার্যালয় থেকে শুরু করে টঙ্গী ষ্টেশন রোড হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে টঙ্গী থানা আওয়ামীলীগ কার্যালয় এসে প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়। গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ মতিউর রহমান মতির সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, টঙ্গী থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, রজব আলী,মজিবুর রহমান মোড়ল, শাহীন আহম্মেদ মিশু, বিল্লাল হোসেন মোল্লা, মামুনুর রশিদ মোল্লা, কাইয়ুম সরকার, সিরাজুল হক, আবুল বাশার খোকন, মোঃ আজগর আলী, সাইদুল হক লিটন প্রধান, আমজাদ হোসেন প্রমুখ। বক্তারা বলেন, সারা দেশে এ বছর ১৫লক্ষ এসএসসি পরীক্ষার্থী বিএনপির হরতাল অবরোধের কারণে আজ তাদের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে। এসএসসি পরীক্ষার্থী ছাত্রছাত্রীরা আজ আতঙ্কের মাঝে রয়েছে।

কাপাসিয়ায় বাল্য বিয়ের হিড়িক ঃ নারী শিক্ষা ব্যাহত গার্ল পাওয়ার প্রকল্প, এনজিও এবং মহিলা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

শাকিল হাসান, কাপাসিয়া : গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ১১ ইউনিয়নের সর্বত্র বাল্য বিয়ের রিতিমত  হিড়িক চলছে। প্রতি দিন কোথাও না কোথাও বাল্য বিয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে শুক্রবার একাধিক বাল্য বিয়ের ঘটনা ঘটে থাকে। কিছুতেই থামছে না বাল্য বিবাহ। সম্প্রতি কাপাসিয়ায় বেশ কয়েকটি বাল্য বিয়ের ঘটনা ঘটেছে। কিন্ত মহিলা কর্মকর্তা ও এনজিওদের এ ব্যাপারে যেন কোন মাথা ব্যাথা নেই। উপজেলার সদর ইউনিয়নে পাবুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী রুমা, কুহিনূর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী তানজিলা, সিংহশ্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী খাদিজা বাল্য বিবাহের শিকার হন। স্থানীয় লোকজন এসব বাল্য বিবাহ বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, এনজিও গুলোর নিকট বার বার অভিযোগ করলেও তাদের পক্ষ থেকে রহস্যজনক কারনে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার, নিকাহ্ রেজিষ্টারগন কার্যকর কোন ভূমিকা নিচ্ছে না।  অভিযোগ রয়েছে, বয়স বাড়িয়ে বাল্য বিবাহ দেয়ার ব্যাপারে তাদের যোগ-সাজস রয়েছে।
বাল্য বিয়ে রোধে যে সব এনজিও সংগঠন কাজ করছে তাদের চরম উদাসীনতার ফলে দিন দিন বাল্য বিয়ের ঘটনা বেড়েই চলেছে। বাল্য বিয়ে বন্ধের ব্যাপারে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার কোন প্রকার তৎপরতা ও ভূমিকা পালন না করায় সচেতন মহলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। সপ্তাহে শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিন গুলিতে বাল্য বিবাহ্ বেশী হয়। কিন্তু এই সব ছুটির দিন গুলিতে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তারকে কাপাসিয়া ষ্টেশনে পাওয়া যায় না। তিনি ঢাকা থেকে এসে অফিস করেন। প্রায় সময়ই আসেন না, যে দিন আসেন দেরীতে এসে আগেই চলে যান। নানা অজুহাতে ঢাকা-গাজীপুরে কাজের কথা বলে নিয়মিত তিনি অফিস ফাঁিক দিচ্ছেন বলে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন যাবত অভিযোগ রয়েছে। মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হওয়া সত্বেও নারী ও শিশু নির্যাতন, ইভটিজিং, বাল্য বিবাহ্ রোধ, যৌতুক বন্ধে পদক্ষেপ, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে তার কোন কার্যক্রম দেখা যায় না। ভুক্তভোগিরা মহিলা কর্মকর্তার অফিসে এসে তাকে পায়নি বলে অভিযোগ করেন। আদালত কর্তৃক প্রেরিত নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন মহিলা কর্মকর্তা সময় মত না দিয়ে গড়িমসি করায় এলাকার লোকজন প্রতিনিয়তই হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। উপজেলার সরসপুর গ্রামের ভূক্তভোগি মনির হোসেন অভিযোগে জানান, মহিলা কর্মকর্তাকে অফিসে এসে পাওয়া যায় না। তদন্ত প্রতিবেদন দিতে তিনি কালক্ষেপন করেন। প্রতিদিন অফিসে এসে তাকে না পেয়ে তারা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এব্যাপারে উপজেলা মহিলা কর্মকর্তাও কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাল্য বিবাহ হলে আমার কি করার আছে ? এলাকা থেকে যদি কেউ স্বেচ্ছায় আমাকে জানায়, তাহলে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করবো। ষ্টেশনে থাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।    
এদিকে বাল্য বিবাহ্ প্রতিরোধে জাতীয় মহিলা সংস্থা, ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ণ কর্মসূচি, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, গার্ল পাওয়ার প্রজেক্ট সহ অনেক এনজিও কাপাসিয়ায় কাজ করছে। একাধিক এনজিও’র স্থানীয় শাখা অফিস থাকলেও এ ব্যাপারে তাদের তেমন কোন ভূমিকা নাই। বিশেষ করে গার্ল পাওয়ার প্রজেক্ট বাল্য বিবাহ্ প্রতিরোধ ও নারীর প্রকি সহিংসতা রোধের নামে দেশ-বিদেশ থেকে মোটা অংকের অর্থ এনে এ বিষয়ে কোন কাজ করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বছরে দু’এক বার নামে মাত্র গুটি কয়েক লোক নিয়ে দায়সারা ভাবে সভা, সমাবেশ, সেমিনার, ওয়ার্কশপের আয়োজন করে ভূয়া ও ভুতুড়ে ভাউচার তৈরী করে টাকা আতœসাৎ করলেও এসব দেখার যেন কেউ নেই। গার্ল পাওয়ার প্রজেক্টের কাপাসিয়া উপজেলা টেকনিক্যাল অফিসার সফিকুল ইসলাম মনগড়া মত যাচ্ছে তাই করে বেড়াচ্ছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি বাজেটের অর্থ আত্মসাতের লক্ষে সংশ্লিষ্টদের কাউকে না জানিয়ে গোপনে প্রোগ্রাম দেখিয়ে মোটা অংকের টাকার ভাউচার দিচ্ছে। এ ব্যাপারে গার্ল পাওয়ারের সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনের কাপাসিয়া উপজেলা সেক্রেটারী নুরুল আমীন সিকদার জানান, গার্ল পাওয়ারের কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে জনসচেতনতা মূলক কর্মসূচি প্রশিক্ষন, গণ নাটক, কনভেনশন, সেলাই প্রশিক্ষণ, টাস্কফোর্স কমিটি গঠন, শিশু সু-রক্ষা কমিটি গঠন, মেয়েদের কারাতে প্রশিক্ষণ সহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও এ ব্যাপারে দৃশ্যমান কোন ভূমিকা নেই। ফলে দীর্ঘ দিন যাবত গার্ল পাওয়ার প্রকল্প কাপাসিয়ায় কাজ করলেও বাল্য বিবাহ বন্ধে কার্যকর কোন উন্নয়ন ও অগ্রগতি নেই। তারা কাপাসিয়া উপজেলার তরগাঁও, কাপাসিয়া সদর ও দূর্গাপুর এই ৩ টি ইউনিয়নকে বাল্য বিবাহ মুক্ত করার ঘোষনা দিলেও তা বাস্তবায়নে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। গার্ল পাওয়ার প্রকল্পের সকল কর্মকান্ড সম্পর্কে স্থানীয় সাংবাদিকদের সকল প্রকার তথ্য প্রদান করার কথা থাকলেও তা করছেন না বলে সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন। তারাগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শামসুল হুদা লিটন জানান, কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার ৬ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রীরা বাল্য বিয়ের শিকার হয়ে শিক্ষা জীবনের ইতি টানছে। বাল্য বিয়ের কারনে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে শত শত ছাত্রী অকালেই শিক্ষা জীবন থেকে ঝড়ে পড়ছে। এ বাল্য বিয়ের প্রবনতার কারনে নারী শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় মহিলা বিষয়ক অফিস ও এনজিও গুলো  বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন কাজই করছেন না। উপরন্ত এসব অফিস দেশ ও বিদেশ থেকে নারী ও শিশু রক্ষার নামে কোটি কোটি টাকা এনে লুটপাট করছে। কাপাসিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক এফ এম কামাল হোসেন ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, কাপাসিয়ায় এনজিও গুলো ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্টরা বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে দায়সারা ভাবে লোক দেখানো কাজ করছে। জনগনের সম্পৃক্ত ছাড়া বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ সম্ভব নয়। অথচ এনজিও গুলো জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কোন ভূমিকা রাখছেনা। স্থানীয় এনজিওদের উদাসীনতার অভিযোগ দীর্ঘ দিনের।

গাজীপুর সিটি মেয়র মান্নান গাড়ী ভাংচুর মামলায় নি¤œ আদালতেও জামিন পেলেন

স্টাফ রিপোর্টার : গাজীপুরে বিএনপির ডাকা হরতালে গাড়ী ভাংচুর মামলায় উচ্চ আদালতে জামিনের পর এবার নি¤œ আদালতেও জামিন পেলেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এম এ মান্নানসহ বিএনপির ৯জন নেতা কর্মী।
বুধবার গাজীপুর জেলা জজ কোর্টের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে হাজির হলে আদালত উচ্চ আদালতের জামিন আবেদন বহাল রেখে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী হাজির হওয়ার দিন ধার্য্য করেছেন।
এর আগে গত৮ জানুয়ারী গাজীপুরে হরতালে গাড়ী ভংচুর মামলায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানসহ নয় জনকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছে হাইকোর্টের বিচারপতি এবিএম মাহবুব চৌধুরী ও কাশেফা হোসেনের দ্বৈত বেঞ্চ।
গত ২৭ ডিসেম্বর বিএনপি ও দলীয় জোটের ডাকে গাজীপুরে হরতাল পালনকালে গাড়ী ভাংচুর করার অভিযোগে এ মামলা দায়ের করে গাজীপুরের স্থানীয় এক সাংবাদিক।
জয়দেবপুর থানায় দায়ের করা মামলা নং ১০৪/২৪৭৩। মামলায় বেআইনীভাবে  গতিরোধ ও অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ আনা হয়।
মামলা পরিচালনা করেন ড. এড.সহিদউজজ্জামান, এড.সুলতান উদ্দিন, এড.সোলায়মান আকন্দ, এড.মোস্তফা কামাল, এড.মনির হোসেন ও এড.নাসির উদ্দিন নাসির।
উল্লেখ্য, ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরে বিএনপির মহাসমাবেশ করার ঘোষণা থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। যার প্রতিবাদে একই দিন হরতাল পালন করে দলটি।

গাজীপুরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক এমপি সহিংসতা বন্ধে প্রয়োজনে পুলিশ বাহিনী সরাসরি গুলি করবেন

গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় বিএনপি জোটের নাশকতার
 বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ।
সারোয়ার আলম : গতকাল বুধবার বিকেলে গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তায় বটম গ্যালারী (প্রাঃ) লিঃ এর শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের আয়োজনে চলমান সহিংসতা, নৈরাজ্য, পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ, চোরাগোপ্তা হামলা ও নিরিহ মানুষ পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে এক মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আলহাজ্ব এড. আকম মোজাম্মেল হক এমপি। তিনি বলেন- জ্বালাও-পোড়াও বন্ধ করতে সরকার বদ্ধ পরিকর। তিনি বলেন- বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। বিএনপি নেত্রীসহ জামায়াত চক্র তা মেনে নিতে পারছেনা। তারা গোপনে রাতের আধাঁরে চলন্ত বাসে ট্রেনে পেট্রোল বোমা মেরে নিরিহ মানুষকে নির্বিঘেœ হত্যা করে চলছে। আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। নিরিহ মানুষকে পুড়িয়ে মারার হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। গার্মেন্টস শিল্প, পোল্ট্রি শিল্প রক্ষাসহ কৃষিপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। মন্ত্রী বলেন- দেশ ও দেশের মানুষের জান-মাল রক্ষার জন্য পুলিশ বাগিনীর হাতে অস্ত্র দিয়েছেন। প্রয়োজনে অস্ত্র ব্যবহার করে গুলি করতে হবে।
পাওয়ার ফিস এন্ড পোল্ট্রি ফিড লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মোকসেদ আলমের সভাপতিত্বে কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন- গাজীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আজমত উল্লাহ খান, অধ্যাপক এম এ বারি, কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক আফজাল হোসেন সরকার রিপন, গার্মেন্টস শ্রমিকলীগ নেত্রী শামসুন নাহারসহ হীরা সরকার প্রমুখ। কর্মসূচী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন- সাবেক বাসন ইউনিয়ন শ্রমিকলীগ সভাপতি কবির আহম্মেদ মন্ডল।
কর্মসূচীতে বক্তারা আরো বলেন- দেশে এখন এস এস সি পরীক্ষা শুরু হয়েছিলো। কিন্তু হরতাল ও অবরোধের কারণে রুটিন অনুসারে তা করা সম্ভব হচ্ছেনা। অথচ বিএনপি নেত্রী তার নাতনীকে মালয়েশিয়ায় রেখে লেখা-পড়া করাচ্ছেন। দেশের ১৫ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চিত। দেশের মানুষ আজ শান্তি চায়। উন্নয়ন চায়। কিন্তু বিএনপি নেত্রী আজ জনগনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

টঙ্গীতে গোপন বৈঠককালে জামায়াত নেতা আটক

ব্যুরো চীফ, টঙ্গী : গতকাল বুধবার বিকেলে টঙ্গী থানা জামাত নেতা লুৎফর রহমান (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে টঙ্গী থানা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে পুলিশ জিহাদি বই, লিফলেট, পোস্টার ও ফেস্টুন উদ্ধার করে।
জানা যায়, টঙ্গী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে, গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় টঙ্গীর বড় দেওড়া আদর্শ পাড়া নূর মোহাম্মদের বাড়িতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জামায়াত নেতা লুৎফর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গোপন বৈঠকের সময় সংঘবদ্ধ অন্য জামায়াত কর্মীরা পালিয়ে যায়।
টঙ্গী মডেল থানার ওসি মোঃ ইসমাইল হোসেন জানান, জামাত নেতা লুৎফর রহমান বড় দেওড়া আদর্শ পাড়ায় নূর মোহাম্মদের বাড়িতে গোপন বৈঠক করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে লুৎফর রহমানকে আটক করা হয়। বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আটকৃত জামায়াত নেতা নিজেকে টঙ্গী থানা জামায়াতে ইসলামীর যুগ্ম-সম্পাদক এবং রুকন বলে দাবি করেন। এব্যাপারে টঙ্গী মডেল থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সেরা রিপোর্টারের পুরস্কার গাজীপুরের সন্তান শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ্

কৃষিবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদন

স্টাফ রিপোর্টার : কৃষিবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদনের জন্য সারা দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে সেরা রিপোর্টারের পুরস্কার পেলেন গাজীপুরের কৃতি সন্তান প্রবীন সাংবাদিক গাজীপুর জেলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক সাপ্তাহিক শীতলক্ষ্যার সম্পাদক শেখ তমিজ উদ্দিন খোকার বড় পুত্র শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ্। গত মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অডিটরিয়ামে এক অনারম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সম্মাননা পুরস্কার দেয়া হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন নতুনধারা ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন। এ সময় সংবর্ধিতদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে বিএনপি জোট তখন পাকিস্তানের মতো ব্যর্থ রাষ্ট্র বানাতে আন্দোলন করছে। তাদের আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়, জনগণের বিরুদ্ধে। নতুনধারা বাংলাদেশের সভাপতি শিকদার রুস্তম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সেকেন্দার আলী। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল বাংলাদেশ প্রতিদিন। অনুষ্ঠানে ঢাকাসহ ৬৪ জেলা থেকে আগত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন রেডিওর ১০০ জন সংবাদকর্মীর কৃষিবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদনের জন্য পুরস্কৃত করা হয়।

কাপাসিয়ায় তাজউদ্দীন স্মৃতি পাঠাগারের নামে সরকারী বরাদ্দ আত্মসাৎ, জমি জবর দখল, গাছ কাটা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

ব্যুরো চীফ, কাপাসিয়া : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একটি রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে সরকারী বরাদ্দ আত্বসাৎ, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও সরকারী গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগি এলাকাবাসি ৪ জানুয়ারী বুধবার দুপুরে কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এক সংবাদ সম্মেলণ করেছে।
সংবাদ সম্মেলণে উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের গাওরার গ্রামের মোঃ সিদ্দিকুর রহমান বন্দুকসী স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগে জানা যায়, একই গ্রামের মৃত সুলতান উদ্দিন বেপারীর পুত্র মোখলেছুর রহমান, মৃত নূর হোসেনের পুত্র আল-মোমেন ও রিয়াজ উদ্দিনের পুত্র লাল মিয়া গংরা সিন্ডিকেট তৈরী করে এলাকার নিরিহ মানুষদের জিম্মি করে নানা ভাবে হয়রানী করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা জালজালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে অভিযোগ কারীসহ একই গ্রামের আবুল বাশার জামাল ও শাহনাজ আক্তার লাভলীর ক্রয়কৃত এবং নামজারীকৃত জমি ভূয়া দলিল তৈরী করে অন্যায় ভাবে জমি জবর দখলের পায়তারা করছে। অথচ গত ২০১৩ইং সালের ১৭ জুলাই জমির প্রকৃত মালিক একই গ্রামের সংসের আলীর পুত্র আঃ মোতালিবের নিকট থেকে ৫০৩৭ এবং ৫০৩৯ নং ২ টি রেজিষ্ট্রি দলিল মূলে ৭.৫০ শতাংশ জমি তাদের নামে নামজারী করেছে। পরবর্তীতে সিন্ডিকেট গংরা ২০১৪ ইং সালের ২৪ ডিসেম্বর একই গ্রামের মৃত ছাদির বেপারীর পুত্র ফজলুল হক বেপারীকে দাতা সাজিয়ে একই চৌহদিভূক্ত জমি থেকে ৪.৩৭ শতাংশ জমির দলিল তৈরী করে। এছাড়া ভূমি দস্যু নামে খ্যাত ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধান মন্ত্রী বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন স্মৃতি পাঠাগারের নামে ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ৪ মেট্রিক টন টি আর প্রকল্পের চাল বরাদ্দ নেয় এবং ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ৩০ নং গাওরার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে ৪.৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ নিয়ে আত্বসাৎ করে। মোখলেছুর রহমান, আল-মোমেন তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের নিয়ে দীর্ঘ দিন যাবত নিরিহ লোকদের কাছ থেকে অন্যায় ভাবে চাঁদা আদায় করছে। সম্প্রতি স্থানীয় দুলালের বাজার এলাকার আমীর বেপারীর স্ত্রী ফাতেমা বেগমের বাড়ি নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে ৪০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে, গিয়াসপুর হতে আড়াল বাজার সড়কে রোপিত লক্ষাধিক টাকা মূল্যের সরকারী মেহগিনি, শিশু গাছ সহ নানা জাতের কাঠ গাছ রাতের আধারে কেটে নিয়ে যায়, ভেরারচালা গ্রামের মিয়াজ উদ্দিন দুলালের বাজারে তার নিজস্ব জায়গায় দোকান ঘর নির্মাণ করতে গেলে তাতে বাধা দিয়ে ৫৫ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে, গাওরার গ্রামের হাসিম উদ্দিন খার বাড়ি হতে জোর পূর্বক লক্ষাধিক টাকার কাঠাল গাছ সহ নানা জাতের কাঠ গাছ কেটে নিয়ে যায়। এলাকাবাসি তাদের এ সকল অপকর্মের বিরোদ্ধে প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি ও প্রান নাশের হুমকী সহ নানা ভাবে হয়রানী করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইতিপূর্বে এলাকাবাসির পক্ষে স্থানীয় ইউপি সদস্য ছিদ্দিকুর রহমান বন্দুকসী বাদী হয়ে তাদের এ সকল কর্মকান্ডের বিরোদ্ধে গাজীপুর আদালত,  কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ব্যাপারে মোখলেছুর রহমানের মোবাইল (০১৭২০৩২৭৭৮৮) এবং আল-মোমেনের মোবাইল (০১৭৮২৯৭৭৮২৬) নাম্বারে বার বার যোগাযোগ করে বন্ধ পাওয়া যায়।

মাদকের নিরাপদ স্থান গাজীপুরের কালীগঞ্জ

স্টাফ রিপোটার : জেলার কালীঞ্জ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নের সর্বত্র এখন মাদকে সয়লাব। উপজেলা সদর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত পল্লীতেও মাদক বেচাকেনার হাট বসে। প্রায় ছয়’শ স্পটে ইয়াবা,গাজা,ফেন্সিডিল,চুলাইমদ,বিদেশী বিয়ারসহ হরেক রকমের মাদক বেচাকেনা হয়। আর এ মাদকের সিংহভাগই সেবন করে থাকে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও উঠতি বয়সের যুবক যুবতীরা।ফলে যুব সমাজএখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। প্রতিনিয়ত বিগ্নিত হচ্ছে আইন শৃংখলা। বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড। মাদক নিয়ন্ত্রনে আইন শৃংক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভুমিকা নিয়েও জনমনে বিরুপ প্রশ্ন রয়েছে  । 
অনুসন্ধানে জানাযায়,কালীগঞ্জ পৌরসভার তুমুলিয়ার বোয়ালী রোড, ভাদার্তীর, সাবরেজিষ্ট্রি অফিস এলাকায় মুনশুরপুরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে। কালীগঞ্জ খেয়াঘাট,সোনালী ব্যাংকের পিছনের পুকুর পাড়, কাপাসিয়া মোড়, শ্রমিক কলেজের আশপাশ,খঞ্জনার শুক্কুরের বাড়ীতে মাদক সেবীদের আখড়া বসে। উপজেলা প্রশাসনের সীমানা প্রাচীর থেকে ক্যাশিয়ার নাসিরের বাড়ীর উত্তরের রেল লাইন পর্যন্ত,ডাক বাংলোর মুচি বাড়ী, প্রাণ.আর.এফ এল’র মেইন গেটের উত্তর পাশে ইসমাইল্,আকরাম,কচি,উত্তরগাঁও তাতী বাজার এলাকা, শহীদ ময়েজ উদ্দিন সেতুর পাশের খেয়া ঘাট, টঙ্গী-ঘোড়াশাল মহাসড়কের কালীগঞ্জ বাইপাসের চলন বিল পরিবহনের কাউন্টার থেকে শহীদ ময়েজ উদ্দিন সেতু পর্যন্ত প্রায় ৫টি স্পটে রাতের আধারে ইয়াবা বিক্রি হয় দেদারছে।
তুমুলিয়া ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়ার পরী,অমর,কামারপাড়া, দড়িপাড়া,নলছটা, দারকাভাংগা,চড়াখোলা, বাজৈন্না পাড়া,ফৈড়াখালী,জাল্লাটি জজু,জ্যাকো কস্তা,নুরুজ্জামান,প্রভাত,বোয়ালী, মানিকপুর,ভাইয়াসুতির লিটন রোজারিও, সাধুবাজার,বাগদি মেম্বার বাড়ী এলাকা,দড়ি পুটিনা। এসব এলাকার প্রায় ১২৫টি স্পটে গাজাঁ,ইয়াবা ,ফেন্সিডিল ও চুলাইমদ অবাধে বিক্রি হচ্ছে। বাগদী,লুদুরিয়া,ধনুন, করানের স্বপনসহ এ এলাকায় মোট ১৫টি স্থানে মাদক বিক্রি হয়। উলুখোলা, নগর ভেলা, মঠবাড়ী,রায়েরদীয়া বাজার,বাসাবাসী, রাথুরা,পাঞ্জোরা মোড়, ইন্দারারপাড়, নাগরী বাজার , বির্তুল ,মাল্লা,ভাসানিয়া,শিমুলিয়া, পিপুলিয়া। এসব গ্রামের প্রায় ৪৫ টি স্পটে চুলাই মদ,ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি হয়। এক কথায় নাগরী ইউনিয়নের নাম বলতেই চলে আসে চুলাই মদের ছোট-বড় কারখানা। প্রতিদিন এ কারখানাগুলো থেকে কয়েক হাজার লিটার চুলাই মদ তেরমুখ নদী পাড় হয়ে ঢাকা শহরে প্রবেশ করে। অথচ সন্নিকটে রয়েছে উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধীক ব্যাক্তি জানায়, ফাঁড়ির সামনের রাস্তা দিয়েই এই পরিমান চুলাই মদ প্রতিদিন শহরে প্রবেশ করে।
বক্তারপুর ইউনিয়নের জয়রামবের গ্রামের প্রায় ৪০টি বাড়িতে রয়েছে চুলাই মদের কারখানা। এদের মধ্যে প্রমিতি,গিলু,দানি,বাবলু,মহন মালা,কেরপি,পূণ্যা,সুনিল,রবি,কালু, আনন্দ,সমর,খোকন,নিমাই,অপু,সাগর,অজিত উল্লেখ যোগ্য। ফুলদীর সারোয়ার,ইউনুছ আলী,মনির,দেন্ধ্যা,সাতানিপাড়ায় রঞ্জন,শিমুল,রনি,প্রতাপ,প্রদিব,মিনা গমেজের বাড়ীতে রয়েছে চুলাই মদের মিনি কারখানা।দেউলিয়ায় জেবিয়ার,রিচার্ড সহ ৩/৪ বাড়ীতে রয়েছে অনুরুপ কারখানা। ফেন্সিডিল ব্যাবসায়ী আবেদ আলী, গাঁজা ব্যাবসায়ী নাজিমদ্দিন দাপটের সাথে মাদক ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বক্তারপুর কমিউনিটি ক্লিনিকটি রাতে ইয়াবা সেবিদের দখলে থাকে। পৈলাণপুরের ইব্রাহীম ওরফে ইবু ও তার ছেলে আলমগীর,ফুলদীর কোষাঘাট, ছৈল্লার মোড়, নাওয়ানের মোড়, ব্রাক্ষনগাঁও বাজার এলাকার ৩টি স্পটে রয়েছে। উল্লেখ্য
জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের কোষাগাড়া ব্রীজের উভয় পাশে, ইয়াবা ডিলার সাইফুল,আফছার উদ্দিন,সোহেল, কাউলিতার বগার বাড়ীর আলমগীর আকন্দ, রনি,রনির মা, আলমগীর ভূইয়া,আজমতপুরে ইব্রাহীম, ও আমজাতের ছেলে আফজল খান,খোরশেদেও ছেলে শাখাওয়াত,রফিকের ছেলে রুবেল, শাহেদ,শাহিন,বৌন্নার খাইরুল,রুবেল,সজীব, পুনশহির ফাইজুল্লা,বাবু, রবিন,যোবায়ের,ফারুক, কাচারী মাঠ,মরাশ-লোনাব সড়কে, কুলথুনের রফিকুল,আজমতপুরের শাহজাহান মৌলবির ৩ ছেলে, দাইত্তারটেক, সালদীয়া,শশীরমোড়ের   পাপ্পু,মিন্টু দর্জি,মনির,দুবুরিয়ার মোল্লাবাড়ির ৩ যুবক,বাঙ্গালগাঁও,কুলুবাড়ী শরিষার চালা হয়ে নরুন পযর্ন্ত বিস্তৃত এলাকায় রমরমা মাদক ব্যবসা চলছে।বাহাদুশাদী ইউনিয়নের ঈস্বরপুরের কেটি ফারুক, খলাপাড়া মিলগেট,কোহিনুর মার্কেট, দক্ষিনবাগ, বাগবাড়ীর মোড়, বাসাইর বাজার মোড়, রাবেয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে কালুর বাড়ীতে চুলাই মদ।
জামালপুর ইউনিয়নের জামালপুর বাজারে মোকাম্মেলের বাবা, কলেজের পূর্ব পাশে, চান্দেরবাগ মোড়, মেন্দিপুর প্রাইমারী স্কুলের পাশে, কাপাইসের মজিবুর,দোলান বাজারের টুন্ডা,স্বপন,জৈনক হুন্ডা মেকার,খাড়গারচরের এক বিএনপি নেতার অনুজ ইয়াবার পাইকারী বিক্রেতা। সে ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করে গাজীপুরের বাসন সড়ক এলাকা থেকে। তার নেতৃত্বে বিএনপি পন্থি মাঠ পর্যায়ের যুব ও ছাত্র দলের কয়েক নেতা জাঙ্গালীয়া, মোক্তারপুর ও জামালপুরে মাদক বিক্রি করে। দলীয় মতভেদ যাই থাকুক মাদক বিক্রি ও সেবনে বড় দুই দলের মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের কোন বিবেধ নাই। 
এক মাত্র মোক্তারপুর ইউনিয়নই মাদকের ছড়াছড়ি কম লক্ষ্য করা যায়। তার পরও মৈশাইর বাজারে দড়ি বাগুনের কামাল, গাজা ব্যবসায়ী জলিল ও তার ভাই নবুল্ল্যা, শিংলাব, ধনপুর,বাঘুন,বড়গাঁও,সাওরাইদ বাজার, লাইলি মার্কেটে ইয়াবা বিক্রি হয় হরহামেশা। আর হরিদেব পুরের মুচি পল্লীতে হয় তৈরী হয় চুলাইমদ।
মাদকের এ ভয়াবহ বিস্তার রোধ করার লক্ষে পুলিশ প্রশাসনসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভুমিকা নিয়ে ইতি মধ্যেই জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সুশিল সমাজ মনেকরে এখনই মাদক ব্যবসায়ীদের লাগাম টেনে না ধরলে কালীগঞ্জ একদিন মেধাশূণ্য হয়ে যাবে।

টঙ্গীতে হরতাল অবরোধ ও নাশকতা ঠেকাতে প্রতিরোধ কমিটি গঠন

ব্যুরো চিফ, টঙ্গী  :  টঙ্গীতে  বিএনপি জামায়াত ডাকা হরতাল অবরোধ নাশকতা, জ্বালাও পোড়াও ও নৈরাজ্যকর কার্যকলাপ প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে টঙ্গী থানা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টঙ্গী থানা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ড, পাড়া মহল্লার নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। টঙ্গী থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হকের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মোঃ রজব আলীর পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাহিদ আহসান রাসেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র এড. আজমত উল্লা খান, গাজীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার সাবেক এমপি কাজী মোজাম্মেল হক, গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতি, টঙ্গী আঞ্চলিক শ্রমিকলীগের সভাপতি একে এম গিয়াস উদ্দিন, মজিবুর রহমান মোড়ল, শহীদুল ইসলাম শহীদ, সাইফুল ইসলাম, আলহাজ্ব সাত্তার মোল্লা, শাহীন আহমেদ মিশু, বিল্লাল হোসেন মোল্লা, কাইয়ুম সরকার, সিরাজুল হক প্রমুখ।

কলাম

ওরা মানুষকে পুঁড়িয়ে মারছে আসুন আমরা কিছু জানোয়ার পুঁড়িয়ে মারি

॥ এম.এ. ফরিদ ॥

দেশব্যাপী বিএনপি জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের ডাকে অবরোধ-হরতাল চলছে। ২০ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ-হরতাল কেমন চলছে বা জনগণের কেমন সাড়া মিলেছে যদি এ ধরনের প্রশ্ন কেউ করেন তবে বলবো সুপার-ডুপার ফ্লপ করেছে। কারণ এ দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ তাঁদের এ অবান্তর কর্মসূচী মেনে নিতে পারেননি। তাই মানুুষকে দেশের কোথাও অবরোধ কিংবা হরতাল পালন করতে দেখা যায় নি। সব কিছুই ঠিকঠাক ভাবেই চলছে। যে কারনে খালেদা জিয়া এদেশের শান্তি প্রিয় নীরিহ মানুষকে পুঁড়িয়ে মারছে। কারন যে কোন মূল্যে তিনি ক্ষমতায় যেতে চান। বাংলার জনগণকে তাঁর কোন প্রয়োজন নেই। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও এদেশের কতিপয় কুলঙ্গার মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে যে ভাবে নীরিহ মানুষজনকে পুঁড়িয়ে মেরেছে ঠিক সেভাবেই খালেদা জিয়া ও তাঁর দোসররা এখন পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ পুঁড়িয়ে মারছে। এসব নর-পিশাচদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না মায়ের পেটে থাকা সন্তান, ২ বছরের শিশু এমনকি বৃদ্ধরাও। কি নির্মমভাবে একের পর এক নাশকতা করে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত জোট চাচ্ছে পাকিস্তানের মতো আমাদের শান্তিপ্রিয় এদেশেও সহিংস ঘটনা সবসময় লেগে থাকুক। একের ভিতর পাঁচ বেগম খালেদা জিয়া সত্যিকার অর্থেই একজন ভালো নাট্যঅভিনেত্রী। তিনি তাঁর ছেলের লাশের সামনে বসে যেভাবে কান্নাকাটি করলেন তা দেখে অনেকের মন কেঁদেছে। অনেকে ভেবেছিলেন এবার বুঝি তিনি অন্য মায়েদের মতো সন্তান হারা মায়ের কষ্ট বুঝতে পারবেন। তিনি হয়তো আর নাশকতার পথে হাটবেন না। কিন্তু কুকুরের লেজ ১ যুগ ঘি মাখিয়ে পাইপে ঢুকিয়ে রাখলেই কি তা সোজা হয়ে যাবে। মোটেই না। লেজ থেকে পাইপ খুলে ফেললেই দেখবেন যেই সেই। সেটি আবার বাকা হয়ে যাবে। অবশ্য এখানে আর একটি উদাহরণ না দিয়ে পারছি না। সেটা হলো কুকুরকে ময়লা খেতে নিষেধ করে মুগুর দিলে সে বলে না আর ময়লা খাব না। কিন্তু কিছু সময় অতিবাহিত হতে না হতেই দেখবেন কুকুর আবার ময়লা খাওয়া শুরু করে দিবে। পরের কথাগুলো লিখে ওই দলের আতি-পাতি নেতাদের গাত্রদাহ করতে চাই না। আমি কি বোঝাতে চেয়েছি তা পাঠক নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন। দেখা গেল ছেলের লাশ দাফনের পর আমাদের সুযোগ্য বিএনপি নেত্রী পরের দিনই অবরোধের পাশাপাশি হরতাল ডেকে বসলেন। আসলে তিনি তো পুত্র শোকে কাঁদেননি। তিনি কেঁদেছেন যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির কথা চিন্তা করে। তিনি কেঁদেছেন কসাই কাদেরের কথা চিন্তা করে। তিনি কেঁদেছেন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। লজ্জা হয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের জন্য। যারা এমন একজন নেত্রীর নির্দেশে চলেন যিনি কি না একজন মা নন, তিনি হলেন একজন ডাইনী। কারন  দলের নেতা-কর্মীদের জন্য ওনার কোন মায়া নেই। দিনের পর দিন নেতাদের পিঠের চামড়া দিয়ে পুলিশ ডুগডুগি বাজাচ্ছে অথচ তিনি এসি রুমে বসে কাচ্চি বিরিয়ানী চিবোচ্ছেন। ত্যাগী এসব নেতাদের জন্য তাঁর কোন মাথা ব্যাথা নেই। দিনের পর দিন হরতাল-অবরোধ ডেকে তিনি শুধু দেশের বারোটাই বাজাচ্ছেন না, তিনি তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের ঘুমও হারাম করে দিয়েছেন। তারপরও যদি আন্দোলন সফল হতো তাতেও মানুষ সান্তনা খুজে পেত। মানুষ বলতে আমি কেবলমাত্র বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতা-কর্মীদের বোঝাতে চেয়েছি। কারন এদেশের সাধারণ মানুষের যদি এই অবরোধ হরতালে বিন্দুমাত্র সমর্থন থাকতো তাহলে তো আন্দোলন সফল হতো। কিন্তু  এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষ তাঁদের এ হঠকারী আন্দোলনের সাথে নেই। তাঁরা ঘৃণাভরে তাঁদের এ কর্মসূচী প্রত্যাখান করেছে। এ জন্য দলটি সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে। পাকিস্তানী দোসরদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিনি আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশকে শ্বম্মান বানানোর যে হীন চক্রান্তে মেতেছেন তা কখনই সম্ভব হবে না। ৩০ লাখ শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এ স্বাধীনতা, দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে পাওয়া আমাদের এ স্বাধীনতা, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এ স্বাধীনতাকে কেউ অপবিত্র করতে পারবে না। কোন দিনও তা সম্ভব নয়। ওরা যদি মনে করে দু-চার জেলায় পেট্রোল বোমা মেরে আন্দোলনের সার্থকতা খুজে পাবে তবে বোকার রাজ্যে বাস করার মতো মনে হবে। আসলেই তো বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়া বোকার রাজ্যে বসবাস করছেন। তা না হলে কি কেউ অন্যের কাঁধে বন্দুক রেখে বাঘ শিকার করে। পাকিস্তানের সেই কুটনিতিককে নিয়ে তিনি এ দেশে যে ভাবে বোমা মারার সংস্কৃতি চালু করতে চেয়েছিলেন সেটাও ধরা পড়ে গেল গোয়েন্দাদের হাতে। সন্ত্রাসে অর্থায়নে যোগানদাতা কুলঙ্গার মাজহারকে সরকার বাক্স বন্দি করে পাকিস্তানে ব্যাকপাস করে দিয়েছে। এখন বেগম জিয়া আবার কোন ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করবেন তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী। যার দেশের প্রতি মমত্ববোধ নেই। যিনি এ দেশের মানুষকে পুঁড়িয়ে মেরে পৈশাচিক হাসিতে বাতাস ভারী করে তোলেন, তাঁর মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না। বাতাসে লাশের গন্ধ পাওয়া যায়। বাতাসে পোড়া মাংসের গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে। কি বিভৎস দৃশ্যগুলো। মানুষের কি করুন আর্তনাদ। সুস্থ্য কোন মানুষ স্থীর থাকতে পারবে না এ দৃশ্য দেখে। চোখ আপনা আপনি বন্ধ হয়ে আসে। চিন্তায় মাথা বেসামাল হয়ে আসছে। কি হবে ওই পরিবারের লোকগুলোর। কি নিয়ে বেঁচে থাকবে ওরা। ওদের ভবিষৎ কি? এমন অনেক প্রশ্ন এখন আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। বর্তমানে আর একটি কঠিন সমস্যা দেখা দিয়েছে তা হলো এস.এস.সি পরীক্ষা। অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেল দেশের ১৫ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষৎ। এসব কচিমনের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে অতিতেও বেগম জিয়া নাটক করেছেন বর্তমানেও নাটক মঞ্চস্থ শুরু করে দিয়েছেন। জানি না কি হবে আমাদের এই ভবিষৎ কর্ণধারদের। কেউ যেন এসব নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না। সবাই যার যার অবস্থান থেকে কেবল কথার ফুলঝুড়ি আমাদের শোনাচ্ছেন। এতে করে কি সমস্যার সমাধান হবে। আমরা সাধারণ মানুষ সমাধান খুজে পেতে চাই। আমরা আর কাউকে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হতে দেখতে চাই না। আমরা শুধু শান্তি চাই। দায়িত্বশীল কর্তা ব্যক্তিরা কেবল আশ্বাসের বানী শুনিয়ে যাচ্ছেন। কার্যত কোন ফল আমরা পাচ্ছি না। শেষ হবে কবে নাশকতা ও সহিংসতার। এর সঠিক জবাব আমরা কার কাছে পাব তাও জানা নেই আমাদের। তবে বলতে পারি গত ১ মাসে বেগম জিয়া ৫৮ জনের মৃত্যু ঘটিয়েছেন। যাদের মধ্যে সাধারণ মানুষ ৪৩ জন। বাকিরা রাজনৈতিক নেতা কর্মী। যানবাহনে আগুন ও ভাংচুর চালানো হয়েছে সহস্রাধিক। এখনও বার্ন ইউনিটে কাতরাচ্ছেন ১১১ জন দগ্ধ অসহায় মানুষ। আমরা প্রায় কয়েক শ হাজার কোটি টাকার লোকসানে পড়ে গেছি। এসব ক্ষতি পুরণ কত দিনে করা সম্ভব হবে তা কি বেগম খালেদা জিয়ার জানা আছে। তিনি কি চাচ্ছেন আমাদের দেশ আবারও পিছিয়ে যাক। তিনি আর কত মার বুক খালি করবেন। আর কত মানুষকে পুঁড়িয়ে মারলে তাঁর আতœা শান্তি পাবে। সরকারকে বলবো এসব বন্ধ করার জন্য জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। শুধু কথায় নয় কাজে প্রমাণ করুন আপনারা জনগণের পাশে আছেন। আর যদি না পারেন তাহলে আমরা যারা এদেশের সাধারণ জনগণ রয়েছি তাঁরা একদিন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবো। যারা পেট্রোল বোমা মেরে আমাদের পুঁড়িয়ে মারছে ওরা পশু। আর পশু পুঁড়িয়ে মারার ঘটনা আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। ওরা যদি মানুষ মেরে জানোয়ার হতে পারে, তবে আমরা কেন ওই সকল জানোয়ারদের পুঁড়িয়ে মারতে পারবো না। তবে আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই এদের আইনগত ও সামাজিকভাবে প্রতিহত করতে হবে। আর যদি আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায় তবে আমরা বাধ্য হব ওদেরকেও পুঁড়িয়ে মারার জন্য। তখন হয়তো তাঁরা বুঝবে মানুষকে পুঁড়িয়ে মারা হলে কত কষ্ট হয়। প্রয়োজনে দু-চার জায়গায় এদেরকে ধরে পুঁড়িয়ে মারতে হবে। এতে করে পেট্রোল বোমা মারা অনেকাংশে কমে যাবে। দেশের বৃহত্তম স্বার্থে এধরনের অমানবিক কাজ করলে খুব একটা খারাপ হবে বলে আমি মনে করি না। অন্তত পক্ষে কিছু খারাপ লোক সমাজ থেকে কমে যাবে। আর যদি কোনোভাবেই বোমাবাজদের ধরা সম্ভব না হয় তবে বিএনপি-জামায়াত ও ২০ দলীয় জোটের কোনো না কোনো সদস্যকে অথবা নেতাকে ধরে হাতের কুনই পর্যন্ত পুুঁড়িয়ে দিতে হবে। তাহলেই পেট্রোল বোমা মারার প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হবে।

কালীগঞ্জে উত্তরগাঁও কমান্ডার কিন্ডার গার্টেনের উদ্বোধন

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌর এলাকায় উত্তরগাঁও গ্রামে গতকাল বুধবার দুপুরে উত্তরগাঁও কমান্ডার কিন্ডার গার্টেন নামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করা হয়েছে। 
উত্তরগাঁও কমান্ডার কিন্ডার গার্টেনের প্রতিষ্ঠাতা ও বিআরডিবি কালীগঞ্জ শাখার চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন রয়েল খাঁনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন পলাশ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শর্মিলী দাস মিলি, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আহমেদুল কবির (আবু খাঁন), সাবেক সভাপতি আবুল হাশেম ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেন (শুক্কুর), ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সেলিম মিয়া। ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান ঝিনুকের পরিচালনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- পৌর কাউন্সিলর আমির হোসেন, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমিনা আক্তার, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. শাহআলম শেখ প্রমুখ। পরে প্রধান অতিথি ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে কমান্ডার কিন্ডার গার্টেনের উদ্বোধন করেন।    

গাজীপুরের কুনিয়ায় জমি জবর দখলের পায়তারা

ভূয়া বায়না দলিল সৃষ্টির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : গাজীপুর মহানগরের কুনিয়া (উত্তর পাড়া) এলাকায় জমির মূল মালিককে উৎখ্যাত করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে গুরুত্বর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করা হয়েছে। যার নং- ২২২, তাং- ০৪/০২/২০১৫ইং।
জিডি সূত্রে প্রকাশ- কুনিয়া গ্রামের মৃত হাসেন আলীর ছেলে মোঃ ফজলুল হক পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত এবং মা-বোনদের সম্পত্তি ক্রয় করে কুনিয়া মৌজার খতিয়ান নং- এস.এ ৫৬, আর.এস ৮৯, এস.এ দাগ নং ২৬ আর.এস দাগ নং ৬১, ৬২ ও ৬৩ তে মোট ৩৫ শতাংশের কাতে ৫ শতাংশ জমিতে বাড়ি-ঘর ও দোকান-পাট নির্মাণ পূর্বক দীর্ঘ দিন যাবৎ ভোগ-দখল করে আসছেন।
কিন্তু ইদানিং স্থানীয় মৃত লতিফ হাজীর ছেলে মোঃ আবুল কাশেম ও তার ছেলে মোঃ ইসমাইল হোসেনসহ তাদের সহযোগি মোঃ শাহ আলম ও বজলু মিয়া ফজলুল হক ওই জমির একটি কথিত ও বানোয়াট বায়না দলিল সৃষ্টি করে এবং ওই জমি থেকে জোর পূর্বক ফজলুল হককে বিতারিত করার চেষ্টা করছে।
সরেজমিনে জানাযায়- গতকাল বুধবার সকাল অনুমান সাড়ে ৮টার দিকে অজ্ঞাতনামা ৫/৭জন যুবকসহ আবুল কাশেম ও তার ছেলে ফজলুল হকের জমিতে অনধিকার প্রবেশ করার চেষ্টা করে। এমনকি তারা বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ সামগ্রী এনে ওই জমিতে জড়ো করে। ফজলুল হক তাতে বাঁধা দিলে, তারা তাকে হত্যার হুমকী দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

রাজনৈতিক সহিংসতায় পিকনিকপার্টি শূণ্য গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান

কাজী মোসাদ্দেক হোসেন : দেশের বনভোজন রসিকদের সেরা আকর্ষণ গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান। শাল গজারীর সবুজেঘেরা কোলাহলমুক্ত ছায়াঘেরা পরিবেশের জন্য এ উদ্যান সবারই পছন্দ। ডিসেম্বর জানুয়ারী দুইমাস বন-ভোজন দলের  আনন্দ উল্লাসে গহীন গজারি বন মেতে উঠত এই সময়ে। পোষাক কারখানার কর্মী, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা বনভোজনে মেতে উঠেন এখানে এসে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার পর ছুটির অবসরে প্রায় সারা দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা মাইক ও ব্যানার লাগিয়ে ছুটে আসতেন জাতীয় উদ্যানে। সরকারি বেসরকারি কটেজ মালিক, উদ্যানের ইজারাদার, স্থানীয় ডেকোরেটর, আইসক্রীম বিক্রেতা ও হকারসহ সংশ্লিট সবাই এবার ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। সবকিছুই যেন অচল। বেশিরভাগ কটেজেই তালা। এবছর দর্শনার্থীর অভাবে সরকার হারিয়েছে বিরাট অংকের রাজস্ব । 
বিএনপির নেতৃতাধীন ২০ দলীয় বিরোধী জোটের অরোধ, হরতাল ও নৃসংশ কর্মকান্ডের কারনে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় বনভোজন কেন্দ্র ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান এবার নীরব নিস্তব্ধ। মৌসুম শেষ হতে চললেও বন-ভোজন রসিকদের দেখা নেই এবার। নেই উদ্যানের প্রবেশ মুখে কোন ভিড়। কটেজ ও মোটেলগুলি  প্রায় ফাঁকা। আনন্দ, কাঞ্চন, সোনালু, অবকাশ, অবসর, বিনোদন। বকুল, মালঞ্চ, মাধবী, চামেলী, বেলী, জুঁই ইত্যাদি। এখানে ১৩টি কটেজ ও ৬টি রেস্টহাউস রয়েছে। এছাড়াও আছে আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর প্রজাপতি পার্ক। এই জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে জলাশয়। এসব জলাশয়ে শৌখিন পর্যটকরা নৌকায় ঘুরে আনন্দ উপভোগ করে থাকেন।
জাতীয় উদ্যানের প্রজাপতি পার্কে ৩৫টি গোত্রের ১৪৬ প্রজাতির প্রায় ৩৭ হাজার গাছ আছে। এখানেই থাকে বাহারি সব প্রজাপতি। এবার রাজনৈতিক সহিংসতার কারনে সেখানেও কোন দর্শনার্থী নাই।
এব্যাপারে ন্যাশনাল পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেঞ্জার আবুল হাসেম জানান, পিকনিক মৌসুমে জাতীয় উদ্যান বনভোজন রসিকদের আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠতো। সারাটাদিন দশনার্থীদের প্রতীক্ষায় থাকি। কিন্তু কোন লোকজনের দেখা মেলে না। নভেম্বর থেকে ফেব্র“য়ারি পিকনিক মৌসুমে কটেজ ভাড়া থেকে সরকারের ৮-১০ লাখ টাকা আয় হয়ে থাকে। এবার রাজনৈতিক সহিংসতার কারনে নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি  তিনমাস কটেজগুলি একেবারেই খালি ছিল। মৌসুম শেষ হতে চলল অথচ  এক লাখ টাকার রাজস্বও আসেনি এবার।
জাতীয় উদ্যানের ইজারাদার মেসার্স বন্ধু ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারি মাজহারুল ইসলাম জানান, এবছর ভ্যাটসহ ৪৩ লাখ টাকায় লীজ নেয়া হয়েছে। পিকনিক পার্টির দর্শনার্থী না থাকায় পুরা বিনিয়োগের টাকাই হারাতে বসেছি। 
সবচেয়ে বেশি লোকসানের মধ্যে পড়েছে ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে ওঠা পিকনিক ¯পটগুলো। এদরে মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জীবন্ত স্বর্গ,পুষ্পদাম, সোহাগপল্লী।
উদ্যানের পাশের বাহাদুরপুর গ্রামের কুলসুম বলেন, স্থানীয় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ছেলেকে কোমল পানীয় ও চা -পানের দোকান করে দিয়েছিলাম। গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ মারার ভয়ে এবার কেউ পিকনিকে আসে নাই। কিস্তির টাকা কিভাবে যে শোধ করবো- সে চিন্তায় ঘুম আসে না। মাস্টারবাড়ি এলাকার খোকন জানান, পিকনিক পার্টি ও শিক্ষাসফর ছাড়াও পার্কে ঘুরতে আসা লোকদের কাছে আইসক্রীম বিক্রি করে এ মৌসুমে কিছু আয় রোজগার করতাম। এবছর পার্ক শূণ্য থাকায় বেকার বসে আছি।
নভেম্বর থেকে ফেব্র“য়ারি এই চার মাস বনভোজন মৌসুম। এসময় গাড়িতে ব্যানার, মাইকে গান আর আনন্দ নৃত্যসহ  সারা দেশের বন-ভোজন রসিকদের গন্তব্য থাকে গাজীপুরের জাতীয় উদ্যান। সারাদেশের স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রী বিশেষ করে রাজধানীর সব বয়সের ভ্রমণ পিপাসুরা অধীর আগ্রহে এই সময়টার জন্য সারা বছর অপেক্ষা করে থাকেন। হরতাল, অবরোধও জ্বালাও পোড়ার রাজনীতির কারনে দুই বছর যাবৎ বনভোজনের আনন্দ থেকে বঞ্ছিত শহরবাসী।

গাজীপুরের সাংবাদিকদের মানববন্ধনে ককটেল বিস্ফোরণ,আটক-১

গাজীপুরে মানব্বন্ধন কর্মসূচীতে ককটেল মারার অপরাধে
হাতে নাতে ধরা পড়া দুস্কৃতিকারী।
এম.এ. ফরিদ ॥ হরতাল অবরোধের নামে নাশকতার প্রতিবাদ ও কালিয়াকৈর প্রেস ক্লাবের অর্থ সম্পাদক মোঃ হুমায়ূন কবীরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মুলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানব বন্ধন চলাকালীন সময়ে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ককটেল বিস্ফোরণ কালে রমজান মোল্লা(২০) নামে এক যুবককে মানববন্ধকারীরা হাতে-নাতে ধরে পুলিশে সোর্পদ করেছেন। গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দায়িত্বরত সহকারী উপ-পরিদর্শক মোঃ শাহজান মিয়া আটকের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ের সামনে কালিয়াকৈর প্রেসক্লাব, গাজীপুর জেলা রির্পোটার্স ক্লাব, জাতীয় কবিতা পরিষদ গাজীপুর জেলা শাখা, নিরাপদ সড়ক চাই গাজীপুর জেলা শাখা ও মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতা গবেষনা পরিষদ গাজীপুর জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে আয়োজিত মানব বন্ধন করা হয়। এসময় মানববন্ধনের ১০ হাত দূরে বিকট শব্দে একটি ককটেল বিস্ফোরণ করে দুর্বৃত্তরা। তবে এঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। পরে উপস্থিত জনতা এক যুবককে আটক কররেও অপর ২ যুবক পালিয়ে য়ায়। আটককৃত যুবক গাজীপুর সদর উপজেলা কামারিয়া এলাকার ফিরোজ মোল্লার ছেলে।
জাতীয় কবিতা পরিষদ গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি কবি আবু নাসির খান তপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মোঃ রমিজ উদ্দিন মাস্টার, গাজীপুর জেলা রির্পোটার্স ক্লাবের উপদেষ্টা লায়ন আঃ মজিদ খান, নিরাপদ সড়ক চাই গাজীপুরের সভাপতি অধ্যাপক ডাক্তার লোকমান হোসেন, গাজীপুর জেলা রির্পোটার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ ফরিদ, কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের সভাপতি আইয়ুব রানা ,সাধারন সম্পাদক মোঃ ইমারত হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক এইচ এম শহীদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, অর্থ সম্পাদক হুমায়ূন কবীর প্রমুখ। 
মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তরা হরতাল অবরোধের নামে নাশকতার প্রতিবাদ ও কালিয়াকৈর প্রেস ক্লাবের অর্থ সম্পাদক মোঃ হুমায়ূন কবীরের বিরোদ্ধে ষড়যন্ত্র মুলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং মানব বন্ধন উপর ককটেল হামলার কারীদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবী করেন বক্ততারা।

কাশিমপুরে যুবলীগ নেতা কে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি

মোঃ বায়েজীদ হোসেন : কাশিমপুর সারদাগঞ্জ এর বাসিন্দা মোঃ কামাল হোসেন দীর্ঘ দিন যাবত কাশিমপুর যুবলীগ এর সাধারন সম্পাদক পদে আছেন। তিনি এলাকায় ন্যায় নীতি ও আদর্শবান এবং অন্যায়ের প্রতিবাদে সোচ্চার। তার বলিষ্ঠ ভূমিকার জন্য উক্ত এলাকায় অপরাধের মাত্রাও কমে গেছে। আর তাই অপরাধীরাও তার বিরুদ্ধে ফুসে উঠছে। সম্প্রতি কাশিমপুর সারদাগঞ্জের মৃত আওলাদ হোসেনের পুত্র আজগর আলী তাকে মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে হয়রানীর হুমকি দেয়। কামাল হোসেন জানান, আজগর আলীর বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় আমাকে ও রফিককে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করবে বলে হুমকী দিয়ে আসছে।

শ্রীপুরে ট্রেনে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় ২০দলীয় জোটের-১৫ নেতাকর্মী আটক

স্টাফ রিপোর্টার, শ্রীপুর : শ্রীপুর রেলওয়ে ষ্টেশন সংলগ্ন জামালপুরগামী কমিউটার ট্রেনে পেট্রোল বোমা  ও ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় শ্রীপুর থানা পুলিশ ২ ফেব্্রুয়ারী সোমবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও শ্রীপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল মুনসুর মন্ডলসহ ২০ দলীয় জোটের ১৫ নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো আইয়ুব আলী, নাজমুল মিয়া, শেখ খায়রুল ইসলাম, মাসুদ করিম, রিফাত, আলী হোসেন, শরিফ সরকার, সৈকত খান, ফাহাদ আকন্দ, মোজাম্মেল হক, রুহুল আমিন, মতিউর রহমান ও সজীব। শ্রীপুর থানা সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃতদের ট্রেনে নাশকতার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় কমলাপুর রেলওয়ের জি.আর.পি থানায় পৃথক মামলা রুজ্জু করা হয়েছে।

কালীগঞ্জে চিকিৎসার প্রলোভনে বৃদ্ধার জমি জালিয়াতি

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালীগঞ্জে চিকিৎসা ও ভরনপোষনের প্রলোভনে এক বৃদ্ধার জমি জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে গতকাল মঙ্গলবার বৃদ্ধা নিজে বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পৌর এলাকার ভাদার্ত্তী (দক্ষিণ পাড়া) গ্রামের মৃত নোয়াব আলীর বিধবা কন্যা আয়তুন নেছা বিবি (৬৫)। স্বামী সবদর আলী ও ছেলে আব্দুল বাতেনকে হারিয়েছেন প্রায় দুই যুগ আগে। আছে একমাত্র ছেলে আসাদুল্লাহ সেও মানসিক ভারসাম্যহীন। বর্তমানে তাকে দেখবাল করার মতো কেউ নেই। তাছাড়া আত্মীয়-স্বজন যারা আছে, তারাও যে যার মতো ব্যস্ত। সূত্র আরো জানায়, আয়তুন নেছার দিন অতিবাহিত হচ্ছে মানুষজনের করা সাহায্য-সহযোগীতায়। তার ছোট বোন উম্মে কুলসুমের স্বামী একই গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে আতাউর রহমান (৫০) চিকিৎসা ও ভরনপোষনের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর আয়তুন নেছার কাছ থেকে কাগজে টিপ সহি নেয়। এ সময় আতাউর তার হাতে চিকিৎসা বাবদ নগদ সাড়ে ৪ হাজার টাকা তুলে দেয়। কিন্তু পরে নিরক্ষর এবং বার্ধক্য জনিত নানা রোগে আক্রান্ত অসুস্থ আয়তুন নেছা জানতে পারে আতাউর উত্তর ভাদার্ত্তী মৌজায় তার ওয়ারিসের অংশের জমি প্রতারনার মাধ্যমে দলিল (নং ১৭৭৩৪/১৪) করে নিয়েছে। পরে ঘটনা উল্লেখ্য করে আয়তুন নেছা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। 
এ ব্যাপারে আতাউর রহমান প্রতিবেদকে জানায়, আমি যথাযথ মূল্যে আয়তুন নেছা বিবির কাছ থেকে তার ওয়ারিশের অংশের জমি সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করে নিয়েছি। কত টাকা ক্রয় করেছেন? প্রশ্ন করলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যায়।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবণে পাঠদান কালীগঞ্জে মাঠ বিহীন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালীগঞ্জে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুকিপূর্ণ ভবণে চলছে পাঠদান। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খেলার মাঠ না থাকায় লেখা পড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা করতে না পেরে সুস্থ্য দেহ ও সুন্দর গড়ে তুলতে পারছেনা কমলমতি শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের নাগরী বালক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি  ১৮৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৩ সালে উক্ত বিদ্যালয়টির নামে ৩৩ শতাংশ জমি দান করলে বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থায় উপনীত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টি উপজেলার ৭৮নং নাগরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যালয়ে শিক্ষার গুনগত মান ভাল থাকলেও ভাল নাই বিদ্যালয়ের ভবণ ও শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ। ঝুকিপূর্ণ ভবণে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। যার ফলে কমলমতি শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় চার শত জন। শিক্ষক সংখ্যা দশ জন। বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরুর পূবে সমাবেশ করার সময় বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় শিশুদের ছোট ছোট লাইনে দাড় করিয়ে সমাবেশ করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে স্কুলের সভাপতি ও পাল পুরোহীত নাগরী ধর্মপল্লী ফাদার আলবিন গমেজ জানান, বিদ্যালয়ের পশ্চিম পার্শ্বে একটি পরিত্যাক্ত ভবণ রয়েছে। সরকার তা ভেঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলা ধুলার ব্যবস্থা করলে ভাল হত। ২০১৪ ইং সনের পিএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫জন, এ পেয়েছে ১২জন, ১১জন শিক্ষার্থী এ-সহ শত ভাগ সফলতা অর্জন করে। শিক্ষার্থী অভিভাবকগণ মনে করেন বিদ্যালয়ের পশ্চিম পার্শ্বের পুরাতন ভবনটি সড়িয়ে নিলে কোমলমতি শিশুরা লেখাপাড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা করতে পারবে। ফলে শিক্ষার্থীদেও শিক্ষার মান উন্নতি হবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রতি মাসে বিদ্যালয়ের মাঠের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আসছি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি অবগত আছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব।

গাজীপুরে ৪০ শিবির কর্মী আটক জিহাদী বই ককটেল উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার : গাজীপুরস্থ ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) এর পাশ্ববর্তী মধ্য ভুরুলিয়া এলাকার একটি কোচিং সেন্টার থেকে ৪০ শিবির কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশীদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জয়দেবপুর থানার ওসি খন্দকার রেজাউল হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে অভিযান চালিয়ে ডুয়েটের পাশে ছাত্র শিবির পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ওই কোচিং  সেন্টারে (অপটিমাম) গোপন মিটিং করার সময় এদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে চারটি ককটেল, লিফলেট, জিহাদী বই, ব্যানার, স্টিকার,  প্রচারপত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তাদেরকে জয়দেবপুর থানা হাজতে রাখা হয়েছে।
জয়দেবপুর থানার ওসি খন্দকার রেজাউল হাসান জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সমবেত হয়ে আটককৃতরা বিভিন্ন সহিংস ঘটনা ঘটাচ্ছিল। আটককৃতদের থানা হাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এব্যাপারে মামলাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

গাজীপুরের কোনাবাড়িতে ১০ কোটি টাকা মূল্যের সিএনবির জমি দখল করে ভবন নির্মাণ !

স্টাফ রিপোর্টার : গাজীপুর সদর থানাধীন কোনাবাড়ি ডিগ্রি কলেজ এর পূর্ব পাশে প্রায় ২ বিঘা সিএনবির জমি যার মূল্য ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা। স্থানীয় প্রভাব বিস্তার এবং দখল করে ভবন নির্মানের কাজ করছে স্থানীয় মৃত মুনছের আলীর দুই ছেলে ভূমিদস্যু হাজী ইউসুফ আলী,মোতালিব হোসেন এবং মৃত্যু আব্দুল খালেকের ছেলে মোঃ কামাল হোসেন। তারা সিএনবির কর্মকর্তাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে এসব সরকারি সম্পতি দখল করে নিয়েছে বলে সরেজমিনে দেখা গেছে।
একটি সূত্রে জানায়, ভূমিদস্যু মোতালিব হোসেন ও তার বড় ভাই ইউসুফ আলী এবং কামাল হোসেন তারা এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে সরকারি জমি দখল করে আসছে।
একটি সূত্রে আরো জানায়, মোতালিব এবং তার বড় ভাই ইউসুফ আলী মুত্তিযুদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ,ক,ম,মোজাম্মেলে হক এমপির নাম ভাঙিয়ে এলাকায় সিএনবির প্রায় ২ বিঘা সরকারি জমি যার মূল্য ৮ থেকে১০ কোটি টাকা তা দখল করে ভবন নির্মান এর কাজ করছে।অপর দিকে তিনি অবৈধ অর্থ উপার্জন এর মাধ্যমে তিনি আলমোনছের নামের একটি কিন্ডার গার্ডেন খুলে বসেছেন।
কেনো সিএনবির জমি দখল করে ভবন নির্মান করছেন এব্যাপারে জানতে চাইলে মোতালিব হোসেন জানান ওই জমি লিজ এনেছি তবে গাজীপুর সিএনবি অফিস তা অস্বীকার করেছেন।গাজীপুর সিএনবির অফিস বলছেন আমরা এব্যাপারে কিছু জানি না কাউকে কোন জমি লিজ দেয়া হয়নি যদি কেউ এধরনের জমি দখল করে আমরা আইগত ব্যবস্থা নিয়ে ওইসব অবৈধ ভবন ভেঙে দেয়া হবে।